আশিষ মণ্ডল, বীরভূম: স্রেফ কৌশিক অমাবস্যায় নয়, করোনা সতর্কতায় ১ অগাস্ট থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ হতে চলেছে তারাপীঠ মন্দির। এই নিয়ে দ্বিতীয়বার। বৃহস্পতিবার বেলার দিকে মন্দির নোটিশ ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। তবে  নিত্যপুজো যেমন চলছে, তেমনি চলবে।

আরও পড়ুন: লকডাউনে ক্লাস না হলেও দিতে হচ্ছে 'চড়া ফি', প্রতিবাদে বিক্ষোভে নামল এবিভিপি

করোনা সতর্কতায় তখন লকডাউন চলছিল রাজ্যে। তারাপীঠ মন্দিরও বন্ধ প্রায় মাস তিনেক। নিত্য়পুজোয় অবশ্য ছেদ পড়েনি। আনলক পর্ব শুরু হওয়ার পর, ১ জুন থেকে মন্দির-মসজিদ-গির্জা খোলার নির্দেশ দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়। এরপর দফায় দফায় বৈঠক বসেন মন্দির কমিটির সদস্যরা। শেষপর্যন্ত রথযাত্রার দিনে ফের খুলে দেওয়া হয় তারাপীঠের মন্দির। তবে গর্ভগৃহে প্রবেশের অনুমতি ছিল না, বাইরে থেকে বিগ্রহ দর্শন করছিলেন ভক্তেরা। করোনা আতঙ্কে মাস খানেক ধরে কিন্তু তারাপীঠের পূর্ণ্যার্থীদের তেমন ভিড় লক্ষ্য করা যায়নি। এরইমধ্যে ১৮ অগাস্ট কৌশিক অমাবস্যায় তারাপীঠে মেলা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। ঠিক হয়, ১২ অগাস্ট থেকে আটদিন মন্দিরও বন্ধ থাকবে। 

আরও পড়ুন: মোবাইলের আলো দেখে তেড়ে এল হাতি, চাষের জমিতে বেঘেরো প্রাণ গেল যুবকের

এদিকে আবার গোটা রাজ্যেই করোনা পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে। লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যাও। মন্দির কমিটির সভাপতি তারাময় মুখোপাধ্যায় বলেন, ' কলকাতা, হাওড়া, দুই ২৪ পরগনা থেকে বহু পুন্যার্থী তারাপীঠে পুজো দিতে আসেন। কার শরীরে রোগ বাসা বেঁধেছে, তা জানা যাচ্ছে না। ফলে গোষ্ঠী সংক্রমণ হতে পারে, সংক্রমিত হতে পারেন সেবাইতরাও। সব দিক বিবেচনা করে আপাতত অনির্দিষ্টকালের জন্য় মন্দির বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।' 

লকডাউনের সময়ে তো করম দুর্ভোগ পোহাতে হয়নি তাঁদের।  ফের তারাপীঠ মন্দির বন্ধের সিদ্ধান্তে মাথায় হাত ফুল ও প্যাঁড়া বিক্রেতাদের। ফুল বিক্রেতা দেবশঙ্কর দাস বলেন, 'মন্দিরে ফুল বিক্রি করেই সংসার চলে। মাসখানেক ধরে মন্দির খোলা থাকায় কিছুটা হলেও স্বস্তিতে ছিলাম। ফের বন্ধের সিদ্ধান্তে আমাদের মতো মানুষের চরম কষ্ট হবে।'