তারাতলা দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবার এবং আহতদের জন্য আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার এক্স হ্যান্ডেলে এই দুর্ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, এই দুর্ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের নিকটাত্মীয়দের ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে।
তারাতলা দুর্ঘটনায় মৃতদের পরিবার এবং আহতদের জন্য আর্থিক সাহায্যের ঘোষণা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বৃহস্পতিবার এক্স হ্যান্ডেলে এই দুর্ঘটনায় শোকপ্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, এই দুর্ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, দুর্ঘটনায় যাঁরা প্রাণ হারিয়েছেন, তাঁদের নিকটাত্মীয়দের প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ত্রাণ তহবিল (PMNRF) থেকে ২ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। এছাড়াও, আহতদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্তরা যাতে সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা পান, তা নিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার দিন-রাত কাজ করে চলেছে।

এখনও পর্যন্ত ঘটনাস্থল থেকে মোট ২৯ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে আট জনের মৃত্যু হয়েছে। বাকিরা জখম অবস্থায় এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মৃতেরা হলেন কৃষ্ণ চৌধুরী, রোহিত চৌধুরী, চন্দ্রমা চৌধুরী, রাহুল চৌধুরী, পাপ্পুকুমার রজক, ঘি কুমার, আসগর হুসেন এবং সাহিল সর্দার।
নির্মীয়মাণ গুদাম ধসের ঘটনায় গুদামের মালিক শম্ভুনাথ বেহরা-সহ মোট পাঁচ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন আয়ান ট্রেডার্সের সুপারভাইজার গুলজার হোসেন, লোহার কাঠামো নির্মাণকারী সংস্থার প্রতিনিধি কমল সামন্ত, শ্রমিক সরবরাহকারী ও ট্রাইমেক্স ঠিকাদার দিবাকর ভাণ্ডারি এবং পুরসভায় নির্মাণ পরিকল্পনা অনুমোদনের ক্ষেত্রে মধ্যস্থতাকারী আব্দুল হামিদ। বুধবার রাতেই গুদামের সুপারভাইজার-সহ প্রায় ন’জনকে আটক করে তারাতলা থানায় জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে পুলিশ। দীর্ঘ জেরার পর শম্ভুনাথ বেহরা-সহ পাঁচ জনকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেফতার করা হয়।
বুধবার রাতেই ভার দেওয়া হয়েছে গোয়েন্দা বিভাগকে। পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার জানিয়েছে, ওই ঘটনার তদন্তের জন্য একটি বিশে, দল গঠন করা হয়েছে। তদন্তকারী দলের মধ্যে রয়েছেন কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার পদমর্যাদার এক আধিকারিক, হোমিসাইড শাখার ওসি-সহ গোয়েন্দা বিভাগের চার জন ও তারাতলা পুলিশ স্টেশনের দু’জন সাব-ইন্সপেক্টর। তদন্ত প্রক্রিয়ার তত্বাবধায়কের দায়িত্বে থাকছেন গোয়েন্দা বিভাগের ডেপুটি কমিশনার।
এদিকে প্রাথমিক তদন্তে কলকাতা পৌরসংস্থার ইঞ্জিনিয়াররা জানিয়েছেন যে, এই বেসরকারি গোডাউনটির নির্মাণ নকশায় (Building Plan) মারাত্মক ত্রুটি ছিল। অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও গাফিলতি ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চপর্যায়ের তদন্তের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আহত শ্রমিকদের দ্রুত হাসপাতালে পৌঁছানোর জন্য কলকাতা ট্রাফিক পুলিশ বিশেষ গ্রিন করিডোরের ব্যবস্থা করেছে। আহতদের সমস্ত চিকিৎসার খরচ রাজ্য সরকার বহন করছে।

