Taratala building collapse Kolkata: তাদের মধ্যে সেই গুদামের সুপারভাইজ়ার ছাড়াও, কাজ করার জন্য যারা শ্রমিক জোগাড় করে দিতেন এমন দু-জনকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে, এই গুদামের প্ল্যানই ছিল ত্রুটিপূর্ণ। এমনটাই জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
Taratala building collapse Kolkata: তারাতলা কাণ্ডে এবার গ্রেফতার তিন (taratala accident today)। বুধবার, কলকাতার তারাতলায় নির্মীয়মাণ গুদামের ছাদ ভেঙে পড়ার ভয়ঙ্কর ঘটনায় এবার তিনজনকে আটক করা হয়েছে। ইতিমধ্যেই তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা শুরু করে দিয়েছে পুলিশ (Taratala building collapse Kolkata)।

তারাতলা কাণ্ডে গ্রেফতার তিন
তাদের মধ্যে সেই গুদামের সুপারভাইজ়ার ছাড়াও, কাজ করার জন্য যারা শ্রমিক জোগাড় করে দিতেন এমন দু-জনকেও গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্যদিকে, এই গুদামের প্ল্যানই ছিল ত্রুটিপূর্ণ। এমনটাই জানিয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
প্রসঙ্গত, এই ঘটনায় তারাতলা থানার পুলিশ স্বতঃপ্রণোদিত মামলা রুজু করে ইতিমধ্যেই তদন্ত শুরু করে দিয়েছে। ঠিক দুপুর ১২:০৭ মিনিট নাগাদ নির্মীয়মাণ এই গুদামটির ছাদ লোহার কাঠামো সহ পুরোপুরি হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে। আচমকা এই ঘটনায় নিচে চাপা পড়েন অন্তত ৪০ জন শ্রমিক। তখন তারা কাজ করছিলেন।
তাদের মধ্যে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তখনই তিনি বলেন, প্রাথমিকভাবে ইঞ্জিনিয়ারদের সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছেন, এই গুদামের নকশা তথা বিল্ডিং প্ল্যানে ত্রুটি ছিল।
ত্রুটিপূর্ণ প্ল্যানেই দেওয়া হয়েছিল অনুমোদন?
অন্যদিকে, ২০ জন শ্রমিক এসএসকেএম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এই ঘটনার দিনই তথা রাতের মধ্যে সুপারভাইজ়ার সহ তিন জনকে আটক করেছে পুলিশ। ধৃতদের মধ্যে রয়েছেন মহম্মদ গুলজ়ার। তিনিই গলেন এই গুদামের সুপারভাইজ়ার। পাশাপাশি মহম্মদ আতাউল এবং সুভাষ চৌধুরীকেও আটক করা হয়েছে। তারা ওই গুদামে শ্রমিক সরবরাহ করতেন।
রাজ্য সরকারের অনুরোধে তারাতলায় উদ্ধারকাজে নামে ভারতীয় সেনা। এছাড়াও জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী তথা এনডিআরএফও উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। ঘটনাস্থলে রয়েছে কলকাতা পুলিশ এবং দমকল।
কিন্তু এই ঘটনা ঘটল কেন? জেনেশুনেই কি ত্রুটিপূর্ণ প্ল্যানেই দেওয়া হয়েছিল অনুমোদন? কর্তৃপক্ষের গাফিলতিকেই দায়ী করছেন বিশেষজ্ঞরা। জানা যাচ্ছে, প্রায় ২০ হাজার বর্গফুট এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই গুদামটির কাজ চলছিল গত দেড় বছর ধরে। জমিটি আসলে বন্দর কর্তৃপক্ষের অধীনে। তবে তারা ২০২৪ সালের ১ অগাস্ট বেহরা ব্রাদার্স নামের একটি সংস্থাকে এই জমিটি ৩০ বছরের জন্য লিজ় দেন।
কোনও আধিকারিক দায়ী? নাকি অন্য কোনও দালাল চক্র বা সিন্ডিকেট কাজ করেছিল?
আর সেই বেহরা ব্রাদার্সের মালিক হলেন শম্ভুনাথ বেহরা। কিন্তু এক্ষেত্রে লিজ় নেওয়া জমিতে গুদাম তৈরির ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নেওয়া হয়েছিল কিনা, সেই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
তবে একাধিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই গুদাম নির্মাণের ক্ষেত্রে কাঠামোগত নকশা বাঁ প্ল্যানিং-এ ভয়ঙ্কর ভুল দেখা যাচ্ছে। নাহলে এইভাবে ভেঙে পড়তে পারে না বলে দাবি করছেন তারা। তাছাড়া নির্মাণকাজে যে সমস্ত উপাদান-সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছিল, সেগুলির মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অনেকে।

কার্যত, লোহার বিম বেঁকে গিয়ে লোহার কাঠামোর নাট খুলে স্লিপ করে বেরিয়ে এসেছে। নির্মাণকাজের সঙ্গে যুক্ত ঠিকাদার আসগর নানারকমের বেআইনি কার্যকলাপের সঙ্গে যুক্ত বলেও খবর আসছে। কিন্তু পাঁচটা প্রাণ চলে গেল। এখনও অনেকের অবস্থা আশঙ্কাজনক। পুলিশ এখন তদন্ত করে দেখছে যে, ত্রুটিপূর্ণ প্ল্যানে অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রে কলকাতা পুরসভার মধ্যেই নির্দিষ্ট কোনও আধিকারিক দায়ী? নাকি অন্য কোনও দালাল চক্র বা সিন্ডিকেট কাজ করেছিল?
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।

