পলাশকান্তি মণ্ডল, নদিয়া: মাত্র কুড়ি টাকা। আর তাতেই মিলেব চা, এক পিস বাটার টোস্ট, ডিম সেদ্ধ, ঘুগনি এবং একটি কলা! মাথা চুলকে অনেকেই ভাবতে পারেন কুড়ি টাকায় সত্যিই কি এত কিছু দেওয়া সম্ভব? কেউ কেউ হয়তো খাবারের গুণমান নিয়েও প্রশ্ন তুলতে পারেন। কিন্তু বাস্তব হল,গত প্রায় দিন সাতেক ধরেে মাত্র কুড়ি টাকায় এমন পেটভর্তি টাটকা খাবারই বিক্রি করছেন নদিয়ার চা দোকানি প্রদীপ গড়াই। আর শুরুতেই তাঁর এই মেনু চূড়ান্ত হিট! সম্প্রতি তাঁর দোকানের কথা ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়তেই রীতিমতো ভাইরাল হয়েছে সেই পোস্ট। এর পর থেকেই প্রদীপবাবুর কুড়ি টাকার মেনু চেখে দেখতে দূর দূরান্ত থেকেও ভিড় করছেন অনেকে। 

নদিয়ার কৃষ্ণনগরের ষষ্ঠীতলায় প্রদীপবাবুর এক চিলতে চায়ের দোকান। এমনিতে আর পাঁচটা চায়ের দোকানের সঙ্গে প্রদীপবাবুর দোকানেরও বিশেষ ফারাক নেই। কিন্তু তাঁকে রীতিমতো বিখ্যাত করে দিয়েছে এই কুড়ি টাকার মেনু। কুড়ি টাকায় কীভাবে এতগুলি পদ দিচ্ছেন? হাসিমুখে প্রদীপবাবুর জবাব, খুব সামান্য লাভে আমি খাবার বিক্রি করছি। কারণ এত সস্তায় ভাল খাবার পেয়ে অনেকেই আমার দোকানে আসছেন। এটা দীর্ঘদিন চললে ভাল কিছু হতে পারে। অনেকেই জিজ্ঞেস করছেন এত অল্প পয়সায় আমি কীভাবে এই খাবার দিচ্ছি? অন্য জায়গায় এই খাবারের দামই অন্তত তিরিশ থেকে পয়ত্রিশ টাকা নেয়।'

দিন কয়েক আগে এরকমই এক ক্রেতা প্রদীপবাবুর দোকানে খেতে এসে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। তাঁকেই প্রদীপবাবু অনুরোধ করেছিলেন তাঁর দোকানের কথা 'নেটে' ছড়িয়ে দিতে। প্রদীপবাবুর অনুরোধ রেখেই সেই ক্রেতা ফেসবুকে পোস্ট করেন ওই চা দোকানির কুড়ি টাকার মেনুর কথা। মুহূর্তে সেই পোস্ট ভাইরাল হয়। এখনও পর্যন্ত সেই পোস্ট পোস্ট ফেসবুকে প্রায় ৯ হাজার শেয়ার হয়েছে। ক্রমশ শেয়ারের সংখ্যা বাড়ছে। 

 

 

প্রদীপবাবুর মূল পরিকল্পনা ছিল অল্প লাভে খাবার বিক্রি করে ক্রেতা টানা। তাঁর সেই উদ্যোগ যে অনেকটাই সফল, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ফেসবুক পোস্ট দেখেই অনেকে তাঁর দোকানে আসতে শুরু করেছেন। আর ফেসবুকের ওই পোস্টে অসংখ্য মানুষ বলেছেন, দূর দূরান্ত থেকে হলেও একটি কৃষ্ণনগরে গিয়ে প্রদীপবাবুর কুড়ি টাকার মেনু চেখে দেখতে চান তাঁরা। 

স্বভাবতই এমন সাড়া পেয়ে প্রদীপবাবুও অভিভূত। স্ত্রী, ছেলে, বউমাকে নিয়ে চারজনের সংসার তাঁর। ছেলে ভিনরাজ্যে কাজে যাওয়ায় তাঁকেই দোকান সামলাতে হয়। গত কয়েকদিনে দোকানে ক্রেতার চাপও গত কয়েকদিনে অনেকটা বেড়েছে। পরিশ্রম বাড়লেও হাসিমুখে প্রদীপবাবু বলছেন, তিনি খুব খুশি। কুড়ি টাকার মেনু দিয়েই এখন স্বপ্ন দেখছেন এই চা বিক্রেতা।