শুধু ছাত্রছাত্রীরাই নন, ক্লাস চলাকালীন অমনোযোগী হয়ে পড়ছেন অনেক শিক্ষকও। তাই পড়ানোর সময় শিক্ষকদের আরও মনযোগী করে তুলতে অভিনব নির্দেশিকা জারি করল বীরভূমে জেলা প্রাথমিক স্কুল শিক্ষা সংসদ। ওই নির্দেশিকা অনুযায়ী এবার থেকে প্রাথমিক এবং জুনিয়র বেসিক (পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত) স্কুলের কোনও শিক্ষক- শিক্ষিকাই আর মোবাইল নিয়ে ক্লাসরুমে পড়াতে যেতে পারবেন না। ক্লাস নিতে যাওয়ার সময় টিচার্স রুমেই মোবাইল রেখে যেতে হবে।

জেলা প্রাথমিক স্কুল শিক্ষা সংসদের চেয়ারম্যান প্রলয় নায়েক এই নির্দেশিকা জারি করেছেন। সেই নির্দেশিকায় স্পষ্টই বলা হয়েছে, শিশুদের যথাযথ শিক্ষা দেওয়ার ক্ষেত্রে ক্লাসের মধ্যে শিক্ষকদের মোবাইল ফোনের ব্যবহার অন্তরায় হয়ে দাঁড়াচ্ছে। ঘন ঘন শিক্ষকদের ফোন বেজে ওঠায় তাঁদের মনোযোগ ব্যাহত হচ্ছে বলেও ওই নির্দেশিকায় উল্লেখ করা হয়েছে। সেই কারণেই জেলার সব প্রাথমিক এবং জুনিয়র বেসিক স্কুলে ক্লাসে শিক্ষকদের মোবাইল ফোন নিয়ে যাওয়া নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই এই নির্দেশিকা জেলার সমস্ত প্রাথমিক স্কুল এবং জুনিয়র বেসিক স্কুলে এই নির্দেশিকা পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে বীরভূম জেলা প্রাথমিক স্কুল সংসদের চেয়ারম্যান প্রলয় নায়েক বলেন, 'অনেক ক্ষেত্রেই দেখা যায় শিক্ষকরা অবচেতন মনেই ক্লাসে মোবাইল ফোন নিয়ে চলে যান। কোনও নির্দিষ্ট অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে আমরা এই সিদ্ধান্ত নিইনি। কিন্তু সামগ্রিকভাবে ক্লাসের মধ্যে শিক্ষকদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের এই সমস্যা সর্বত্রই রয়েছে। ক্লাস রুমের মধ্যে সেলফি তুলে কোনও কোনও শিক্ষক সোশ্যাল মিডিয়াতেও শেয়ার করেন। এতে শিক্ষকদের মনযোগ যেমন ব্যাহত হয়, ছাত্রছাত্রীদের উপরও প্রভাব পড়ে।' 

আরও পড়ুন- মোবাইলে মগ্ন নার্স, দুর্গাপুরে অক্সিজেনের অভাবে বেঘোরে মৃত্যু রোগীর

আরও পড়ুন- ইঞ্জিন ছাড়াই দশ কিলোমিটার ছুটল মালগাড়ি, দেখুন সেই ভিডিও

প্রলয়বাবু অবশ্য স্বীকার করেছেন, মোবাইল ফোন টিচার্স রুমে নিরাপদে রেখে যাওয়ার মতো পরিকাঠামো হয়তো জেলার সব প্রাথমিক স্কুলে নেই। সেক্ষেত্রে স্কুলের অফিস রুমেও ফোন রেখে যাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, এই নির্দেশিকার মাধ্যমে শিক্ষকদের মানসিকতা বদল করাই মূল উদ্দেশ্য। তবে জরুরি কোনও প্রয়োজনে শিক্ষক অবশ্যই টিচার্স রুমে এসে বা ক্লাসের বাইরে মোবাইলে কথা বলতে পারবেন বলেও জানিয়েছেন জেলা প্রাথমিক স্কুল সংসদের চেয়ারম্যান। নির্দেশিকা না মানলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষকের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।

বীরভূম জেলা প্রাথমিক স্কুল সংসদের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন শিক্ষাবিদরাও। তাঁরা চান এই নির্দেশিকা গোটা রাজ্যেই চালু করা হোক। শুধু প্রাথমিক স্তুর নয়, সব বিভাগেই এই নির্দেশিকা প্রণয়নের পক্ষে সওয়াল করেছেন শিক্ষাবিদরা।