শশাঙ্কের সময়ের স্থাপত্য ও বিষ্ণুমূর্তি উদ্ধার মুর্শিদাবাদে। নতুন বাড়ি তৈরি করার জন্য ভিত কাটতে গিয়ে মাটির তল থেকে উদ্ধার হয়েছে এক এক করে ৪টি প্রাচীন আমলের কালো পাথরের স্থাপত্য ও  খোদাই করা মূর্তি। সোমবার এই খবর চাউর হতেই মুর্শিদাবাদের জিয়ৎকুন্ডু এলাকায় এই ঘটনায় শোরগোল পড়ে যায়।

আরও পড়ুন, কোভিড দেহ বহনে আর প্লাস্টিক নয়, সৎকারে ভুট্টা দানা থেকে তৈরি সুতির ব্যাগের ব্যবহার  


এই মুহূর্তে মূর্তিটি বাড়ির মালিক লোহারাম সিংহের উঠানে রাখা রয়েছে । ঘটনার পরই কৌতুহলী মানুষজন থেকে শুরু করে আশেপাশের প্রতিবেশীরা ছুটে আসছেন প্রতিমুহূর্তে। মূর্তিটি উদ্ধারের পর তাকে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করে সকলে ফুল বেলপাতা দিয়ে পূজা আর্চনা শুরু করে  দিয়েছেন ওই দেবী মূর্তি কে ঘিরে। প্রাথমিকভাবে  মনে করা হচ্ছে, একসময় শশাঙ্কের রাজধানী ছিলো এই মুর্শিদাবাদের কর্ণসুবর্ণ। ফলতো তো সেই সময়ের কোন স্থাপত্য হতে পারে।যদিও এই নিয়ে এখনো জেলার প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগের কেউ সঠিক করে কিছু জানাতে পারেননি। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়,  জিয়ৎকুন্ডু গ্রামের বাসিন্দা লোহারাম সিংহ স্থানীয়  জিয়ৎকুন্ডু গ্রামে কয়েক কাঠা জায়গা কিনেন  নতুন করে বাড়ি নির্মাণ করার জন্য। আর সেই মতো লোহারামবাবু মিস্ত্রি লাগিয়ে  বাড়ি নির্মাণের জন্য ভিত কাটছিলেন।এমন সময়  কোদালের ডগায় বিকট আওয়াজ হতেই মাটি খোঁড়ার কাজ থামিয়ে দেয় শ্রমিকেরা। তারপরেই আশেপাশের বেশ কিছুটা অংশগ্রহণ মাটি খুঁড়ে ফেলতেই উঠে আসে এক এক করে ঐ ৪ কালো রংয়ের ৩-৪ফুট উচ্চতার পাথরের স্থাপত্য ও বিষ্ণুমূর্তি বলেই স্থানীয়রা জানান।

আরও পড়ুন, ভ্যাপসা গরমে বৃষ্টি উধাও কলকাতায়, প্রবল বর্ষণ দক্ষিণ ভারতে, ঘূর্ণিঝড় নিয়ে কী বলছে হাওয়া অফিস 

 এরপরই হতভম্ব হয়ে গৃহ নির্মাণের কাজ স্থগিত করে দেন বাড়ির মালিক। তড়িঘড়ি খবর দেওয়া হয় স্থানীয় প্রশাসনকে। মূর্তিটিকে তুলে লোহারামের প্রতিবেশীর বাড়ির উঠানে তুলসীতলার নিচে রাখা হয়েছে।সেখানেই তেল সিঁদুর মাখিয়ে পুরোহিত ডেকে পুজো করছেন গ্রামবাসীরা। মূর্তিটিকে দেখতে এলাকায় ভিড় জমাতে শুরু করেছেন মানুষ। লোহারাম বাবু জানান, প্রশাসন যদি মূর্তিটি না নিয়ে যায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য সেটা তাদের ব্যাপার। তবে যদি নাও নিয়ে যান তাহলে এই তুলসী বেদীর তলায় ঐ মূর্তিগুলি রেখে তাঁরা রেখে পুজো করবেন"। এ দিনের শেষ পাওয়া খবরে জানা যায়, জেলা পুরাতত্ত্ব বিভাগ এর পক্ষ থেকে পুরো বিষয়টি রাজ্য প্রত্নতত্ত্ব  বিভাগের  কর্তাদের  জানানো হয়েছে। পরবর্তীতে তারা যেভাবে সিদ্ধান্ত নেবেন সেই ব্যবস্থাই গ্রহণ করা হবে।