আগামী ৮ই জানুয়ারি বামফ্রন্টের ডাকা বনধ সমর্থন করছেন না বলে এদিন প্রশাসনিক বৈঠকের মঞ্চ থেকে জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন,'বনধের ইস্যুকে সমর্থন করলেও বনধকে কোনওভাবেই সমর্থন করছি না। আমরা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এর বিরোধিতা করব। বনধ করলে সরকারের প্রচুর টাকা ক্ষতি হয়। এমনিতেই সরকার আর্থিক দুরাবস্থার মধ্যে দিয়ে চলছে।' 

জেএনইউ ইস্য়ুতে বামপন্থী ছাত্রদের পাশে দাঁড়ালেও  বনধকে সমর্থন করলেন না মুখ্যমন্ত্রী। অতীতে বাম আমলে বনধকেই সংস্কৃতি বানিয়ে নিয়েছিল বামেরা। ক্ষমতাচ্যুত হয়ে রাজ্য়ে বহুবার বন্ধ করার চেষ্টা করেছেন তারা। কিন্তু প্রতিবারই কর্মদিবস নষ্টের বিরোধিতা করেছেন মুখ্য়মন্ত্রী। এবারও সেই একই পথে হাঁটলেন তিনি। ইতিমধ্য়েই মোট ১২ দফা দাবিতে বাম-ডান একাধিক ট্রেড ইউনিয়ন ও ফেডারশনগুলি ৮ জানুয়ারি সারা দেশে সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। কিন্তু বাংলায় সেই বনধ বা ধর্মঘট হবে না বলে স্পষ্ট জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী ।

ইতিমধ্য়েই বনধকে কেন্দ্র করে সমস্ত সরকারি কর্মীদের ছুটি বাতিল করা হয়েছে নবান্ন থেকে।  কাজে যোগ না দিলে বেতন কাটা যাবে  বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যেই এ বিষয়ে নির্দেশিকা জারি করেছে নবান্ন। ইস্যু সমর্থন করলেও, ধর্মঘট কোনওভাবে মানা যাবে না বলেই গঙ্গাসাগর থেকে সাফ জানিয়ে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবার গঙ্গাসাগর পরিদর্শনে যান  মমতা। সেখানেই তিনি বলেন, বাংলায় কোনও বনধ হচ্ছে না। পাশাপাশি নবান্ন থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়েছে,যে সমস্ত কর্মীরা কাজে যোগ দেবেন না, তাঁদের একদিনের বেতন কাটা হবে । সেইসঙ্গে কর্মজীবন থেকে একদিন ছেদ পড়বে। এছাড়াও কর্মচারীরা বনধের আগের বা পরের দিন ক্যাজুয়াল লিভ নিতে পারবেন না।

এদিন কপিলমুনির আশ্রমে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী  বলেন, বনধ হল সস্তার রাজনীতি। বাংলার সরকার তা সমর্থন করে না। রাজ্য় রাজনৈতিক মহল বলছে, এনআরসি, সিএএ, কেন্দ্রের বেপরোয়া বেসরকারিকরণ, বিলগ্নিকরণ-সহ একগুচ্ছ ইস্যুর বিরোধিতায় সাধারণ ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে ট্রেড ইউনিয়নগুলি। মনে করা হয়েছিল তৃণমূল এই নীতিগুলির বিরোধিতা করায় বনধ নিয়ে সুর নরম করবে। কিন্তু এবারও কর্মদিবস নষ্ট করার পথে হাঁটলেন না  মুখ্য়মন্ত্রী।