হায়দরাবাদ, নির্ভয়া কাণ্ড নিয়ে প্রতিবাদের শেষ নেই রাজ্য়ে, অথচ ঘরের মেয়ের কথা মনে রাখেনি কেউ। ১৮ ডিসেম্বর সিঙ্গুরে পাওয়া গেছিল তাপসী মালিকের আগুনে পোড়া দেহ। ১৩ বছর পরও মেয়ের খুনিরা সাজা পেল না। শহিদ বেদির সামনে ছলছল চোখে আক্ষেপ বাবার। 

রাজ্য়ে পালা বদলের সময় তাপসী মালিক হত্যাকাণ্ড নিয়ে উত্তাল হয়েছিল বঙ্গ রাজনীতি। তৃণমূলের তরফে অভিযোগ ওঠে, সিঙ্গুরের কৃষি জমি রক্ষা কমিটির সক্রিয় সদস্য হওয়ায় ধর্ষণ করে খুন করা হয়েছে তাপসীকে। খুনের প্রমাণ মেটাতে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল দেহ। ঘটনার পর কাঠগড়ায় ওঠে সিপিএম-এর নাম। এরপর দীর্ঘ ১৩ বছর কেটে গিয়েছে। বামেদের সরিয়ে ক্ষমতায় এসেছেন তৃণমূল নেত্রী। শাসক দলের উদ্য়োগে শহিদ বেদি তৈরি হয়েছে। ঘটা করে প্রতি বছর স্মরণ সভাও হচ্ছে। কিন্তু সাজা পায়নি তাপসী মালিকের খুনিরা। 

কিন্তু এখনও দোষীদের সাজা হলো না বলে আক্ষেপ জানালেন তাঁর বাবা মনোরঞ্জন মালিক। এবারও তাপসীর মৃত্যু দিবস এক করতে পারেনি এলাকার দুই বিধায়ককে ।  এককালের গুরু শিষ্য এখন সম্পূর্ণ দুই মেরুতে । বুধবার ছিল তাপসী মালিকের মৃত্যুদিন । ১৩ বছর আগে ২০০৬ সালের ১৮ ডিসেম্বরের কথা। কাকভোরে সিঙ্গুরের বাজেমেলিয়া গ্রামের মাছ বিক্রেতা মনোরঞ্জন মালিকের মেয়ে তাপসীর দগ্ধ দেহ মেলে তৎকালীন টাটার অধিকৃত জমিতে। সেই সময় সিঙ্গুর কৃষি জমি রক্ষা কমিটির আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী ছিলেন তাপসী। 

তাপসী মালিক ধর্ষণ ও খুনে সিপিএম কর্মীদের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে।  সারা রাজ্যে প্রভূত আলোড়ন সৃষ্টি করে এই ঘটনা । তৎকালীন বাম সরকার সিবিআই-কে তদন্তের ভার দেয় । গ্রেফতার হন সিপিএম নেতা সহ কয়েকজন । পরে তাঁরা জামিনে ছাড়া পান । ওই দিনের পর থেকে মমতা বন্দ্য়োপাধ্য়ায়ের নির্দেশে প্রতি বছর এই দিনটি বিশেষ ভাবে পালন করে তৃণমূল। তাপসী মালিকের বাড়ির কাছে গড়ে উঠেছে তাঁর স্মৃতিস্তম্ভ। সেখানে মাল্যদান থেকে শুরু করে স্মরণসভা , রক্তদান শিবির  বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মধ্যে পালিত হয় দিনটি । কিন্তু সিঙ্গুর আর হরিপালের বিধায়ক রবীন্দ্রনাথ ভট্টাচার্য ও বেচারাম মান্না কখনও একসঙ্গে থাকেন না । এ বারও তার ব্য়তিক্রম হয়নি।

তবে মেয়ের স্মরণসভায় সেরকম লোকজন নেই দেখে অভিমান ঝরে পরেছে তাপসীর বাবা মনোরঞ্জন মালিকের গলায় । নিজেকে তৃণমূলের সৈনিক হিসেবে দাবি করে তাঁর আক্ষেপ, তৃণমূল ক্ষমতায় থাকলেও ১৩ বছর পরেও তাঁর মেয়ের খুনিদের কোনও শাস্তি হল না। তাঁর দাবি, মেয়ের খুনিদের ফাঁসি হোক। মনোরঞ্জনের আক্ষেপ,পুরো বিষয়টি দিদি জানেন , তা  সত্ত্বেও কেসটা কোর্টে উঠছে না। কেন উঠছে না তা  দিদিই ভালো বলতে পারবেন।

রাজ্য়র সাম্প্রতিক চিত্র বলছে, হায়দরাবাদ ধর্ষণকাণ্ডে দিসার ধর্ষকদের সাজার দাবিতে পথে নেমেছে রাজ্য়বাসী। অতীতেও দিল্লির নির্ভয়া নিয়ে মোমবাতি মিছিলে পা মিলিয়েছে কলকাতা। কিন্তু যাকে ঘিরে রাজ্য়ে পরিবর্তনের সলতে পাকানো , তার কথা মনে রাখেনি কেউ।