TMC vs NCPI: মহুয়া মৈত্রের ‘৪০ কোটি টাকা’ সংক্রান্ত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে তৃণমূল কংগ্রেসের বিক্ষুব্ধ সাংসদ আইনি পথে হাঁটার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সম্মানহানির অভিযোগ তুলে মানহানির মামলা করার কথা ভাবছেন বলে সূত্রের খবর।
৪০ কোটিতে বিক্রি হয়েছে তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন সাংসদ। অনেকটা এমনই অভিযোগ সোশ্যাল মিডিয়ায় করেছিলেন তৃণমূল কংগ্রেস সাংসদ মহুয়া মৈত্র। আর সেই কারণেই মহুয়ার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করতে পারেন সম্প্রতি ত্রিপুরার অখ্যাত দল NCPIতে যোগ দেওয়া তৃণমূলের ২০ জন বিক্ষুব্দ সাংসদ। এনসিপিআই-তে যোগ দেওয়া তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ জন সাংসদ একটি ভার্চুয়াল বৈঠকে যোগ দেন। সেখানেই মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে দাবি করেছেন বিক্ষুদ্ধ সাংসদদের নেত্রী কাকলি ঘোষ দস্তিদার।

মহুয়া মৈত্রের মন্তব্য
বিধানসভা নির্বাচনের পরই রীতিমত দলের অন্দরে ধাক্কা খেয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মমতা-অভিষেকের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে ঋতব্রতা যখন যখন বিধানসভায় নিজেদের 'আসল তৃণমূল' বলে দাবি করছেন তখনই দিল্লিতে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছেন তৃণমূলের ২৮ জনের মধ্যে ২০ জন সাংসদ। তারা সম্প্রতি যোগ দিয়েছেন অখ্যাত এনসিপিআই বা ন্যাশানাল সিটিজেন পার্টি। যারা বর্তমানে বিজেপির সবথেকে বড় শরিক দল বলেও দাবি করেছেন। যাইহোক বাংলায় যখন তৃণমূল ভাঙছে ঠিক তখনই মহারাষ্ট্রে ভাঙছে শিবসেনা।
সম্প্রতি মহারাষ্ট্রে উদ্ধব ঠাকরের শিবসেনা দলেও কয়ের জন সাংসদ বিদ্রোহী হয়েছেন। উদ্ধবের হাত ছেড়ে তারা বিরোধী একনাথ শিন্দের শিবিরে যোগ দিতে চলেছেন বলে গুঞ্জন। তাঁদের বিরুদ্ধে ১৫ কোটি টাকা করে নিয়ে বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ তোলেন উদ্ধব গোষ্ঠীর সঞ্জয় রাউত। সেই পোস্টই শেয়ার করে মহুয়া মৈত্র বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে রীতিমত তোপ দাগেন। তিনি লেখেন, 'মাত্র ১৫ কোটি? এত সস্তায় কেন যাচ্ছেন? আমার বিশ্বাস, আমাদের সাংসদেরা চার কোটি টাকা করে অগ্রিম নিয়েছেন। বাকি ৩৬ মাসের জন্য এক কোটি করে নিচ্ছেন।' সোশ্যাল মিডিয়ায় মহুয়ার অভিযোগ প্রতি সাংসদ মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহের বিনিময় ৪০ কোটি করে টাকা পাচ্ছেন।

প্রতিপক্ষের প্রতিক্রিয়া
মহুয়ার বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ সাংসদদের অভিযোগ, সোশ্যাল মিডিয়া ও সংবাদ মাধ্যমের সামনে দলত্যাগীদের সম্পর্কে অবমাননাকর মন্তব্য করেছেন তিনি। তৃণমূলের টিকিটে জিতে বিজেপির সঙ্গে হাত মেলানোর সাংসদদের বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন তিনি। তাই এই মন্তব্যগুলি বিবেচনা করেই এবার আইনি পথে হাঁটতে পারে এনসিপিআই। শতাব্দী রায় বলেন, 'আমরা মহুয়া মৈত্রের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ করার বিষয়ে ভাবনাচিন্তা করছি। আপাতত এটুকুই বলতে পারব।' সূত্রের খবর মহুয়ার বিরুদ্ধে মানহানির মামলা করা হতে পারে।

