পেঁয়াজের যা দাম! তার চেয়ে বরং আপেল অনেক সস্তা। আর শীতের সময়ে খেতেও মন্দ লাগবে না। এই ভাবনাকে হাতিয়ার করে অভিনব কায়দায় পূর্ব বর্ধমানে পেঁয়াজের দাম বৃদ্ধির প্রতিবাদ শামিল তৃণমূল কংগ্রেসের জয়হিন্দ বাহিনী। মঙ্গলবার দুপুরে বর্ধমান শহরের প্রাণকেন্দ্র কার্জন গেটে সামনে বিলি করা হল আপেল।

সোনা-রূপো নয়, বাজারে গিয়ে এখন পেঁয়াজ কিনতে গিয়ে এখন পকেটে টান পড়ছে আমবাঙালির। রাজ্যের কোথাও দেড়শো টাকার কমে  এককেজি পেঁয়াজ পাওয়া যাচ্ছে না! পেঁয়াজ মূল্যবৃদ্ধিতে লাগাম পরাতে রাজ্যে সরকারের উদ্যোগের কিন্ত অভাব নেই।  বাজারে নজরদারি, বাইরে থেকে পেঁয়াজ আমদানি, বিভিন্ন জায়গায় সুফল বাংলার স্টল থেকে ন্যায্য দামে পেঁয়াজ বিক্রি, বাদ নেই কিছুই। বস্তুত, গত সোমবার থেকে রেশন দোকানেও ন্যায্য মূল্যে পেঁয়াজ বিক্রি শুরু করেছে রাজ্য সরকার। ৫৯ টাকা দরে পরিবার পিছু বরাদ্দ একে কেজি পেঁয়াজ! কিন্তু  খুচরো বাজার পেঁয়াজ দাম আর কম কই! বরং পেঁয়াজের থেকে আপেলের মতো দামী ফলকে সস্তা মনে হচ্ছে। কিন্তু দাম বাড়ছে কেন? উত্তর জানা নেই কারওই।  গত সোমবার পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুরে এক জনসভায় পেঁয়াজ দাম বৃদ্ধির দায় কেন্দ্রের ঘাড়ে চাপিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় স্বয়ং। তাঁর সাফ কথা, 'পেঁয়াজ কেন্দ্রের সাবজেক্ট।' মমতা বন্দ্যোপাধ্যা আর তো স্রেফ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী নন, তৃণমূল কংগ্রেসের দলনেত্রীও বটে। বর্ধমানে পেঁয়াজ দাম বৃদ্ধি ইস্যুতে মোদী সরকারের বিরুদ্ধে অভিনব প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করলেন এ রাজ্যের শাসকদলের জয়হিন্দ বাহিনীর সদস্যরা।

মঙ্গলবার দুপুরে বর্ধমান শহরের কার্জন গেটে সামেন আপেল বিলি করলেন তৃণমূল কংগ্রেসে জয়হিন্দ বাহিনীর সদস্যরা। যাঁরা এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে শামিল হয়েছিলেন, তাঁদের সকলেই পোশাকের উপর ছিল মোদী সরকার বিরোধী প্ল্যাকার্ড।  প্রতিবাদ মঞ্চে বক্তব্য রাখলেন তৃণমূল কংগ্রেসের জয়হিন্দ বাহিনীর পূর্ব বর্ধমান জেলা সভাপতি রবীন নন্দী ও জেলা পরিষদের সহ-সভাধিপতি দেবু টুডু। উল্লেখ্য, লোকসভা ভোটের পর রাজ্যের প্রতিটি ব্লকে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে দলের কর্মীদের নিয়ে জয়হিন্দ বাহিনী তৈরি করার নির্দেশ দিলেন তৃণমূলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। 

এদিকে শীতের দুপুরে রাস্তায় বেরিয়ে আপেল পেলে বেজায় খুশি পথচারীরাও।  সত্যি কথা বলতে, পেঁয়াজের অগ্নিমূল্যের বাজারে এখন অনেকেই আপেল খাওয়ার অভ্যাস করছেন!  কারণ যাই হোক না কেন, রাজ্যের শাসকদলের তরফে আপেল বিলির প্রশংসা করেছেন সকলেই।