উত্তম দত্ত, হুগলি:  দুর্নীতির অভিযোগ তো ছিলই, এবার আমফানের ত্রাণ পাইয়ে দেওয়ার অছিলায় গৃহবধৃ ধর্ষণের অভিযোগে তৃণমূল নেতাকে গ্রেফতার করল পুলিশ। ধৃতকে  দু'দিনের পুলিশি হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছে আদালত। হুগলির সিঙ্গুরের ঘটনা। 

আরও পড়ুন: করোনায় প্রাণ গেল আরও এক তৃণমূল নেতার, শোকের ছায়া দাদপুরে

ঘটনাটি ঠিক কী? সিঙ্গুরের দিয়ারা এলাকায় থাকেন নির্যাতিতা ওই গহবধূ। তাঁর স্বামী সামান্য দিনমজুরের কাজ করেন। একটি চালাঘরে দুই সন্তানকে নিয়ে থাকতেন স্বামী ও স্ত্রী। নির্যাতিতা পুলিশকে জানিয়েছেন, ঘুর্ণিঝড়ে ঘরের চালা উড়ে যায়। ত্রিপলের জন্য স্থানীয় তৃণমূল নেতাদের দ্বারস্থ হন তিনি। এরপর ত্রিপল পাইয়ে দেওয়ার অজুহাতে অভিযুক্ত রমেশ কোলে নির্যাতিতার বাড়িতে যাতায়াত শুরু করে বলে অভিযোগ।

নির্যাতিতার দাবি, একদিন দুপুরে স্বামী যখন ব্লক অফিসে ত্রিপল আনতে গিয়েছিলেন, তখন ঘুরে ঢুকে তাঁকে ধর্ষণ করেছে রমেশ।  শুধু তাই নয়, পুলিশে অভিযোগে জানালে প্রাণনাশের হুমকিও দেয় সে। ফলে ভয় আর থানায় যাননি নির্যাতিতা। তাহলে এতদিন পরে এফআইআর করলেন কেন? অভিযোগকারীর বক্তব্য, ইদানিং পাড়ায় তাঁর নামে কুৎসা রটাচ্ছিল অভিযুক্ত। এরপরই পুলিশের অভিযোগ জানানোর সিদ্ধান্ত নেন এবং স্বামীকে সঙ্গে সোমবার সকালে চলেন সিঙ্গুরে বিজেপির অফিসে। ঘটনাটি জানাজানি হতে শোরগোল পড়ে যায়। কলকাতা থেকে সিঙ্গুরে চলে আসেন বিজেপি মহিলার মোর্চার সভানেত্রী অগ্নিমিত্র পাল। তিনিই নির্যাতিতাকে সঙ্গে করে নিয়ে যান সিঙ্গুর থানায়।  অভিযুক্তকে গ্রেফতারে দাবিতে থানায় পথ অবরোধও চলে কিছুক্ষণ।

আরও পড়ুন: সংক্রমণের আশঙ্কা নিয়েও দেদার বিধিভঙ্গ, করোনায় আক্রান্ত তৃণমূলের শ্রমিক নেতা

অবশেষে ধরা পড়ল অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা রমেশ কোলে। মঙ্গলবার রাতে তাকে গ্রেফতার করে সিঙ্গুর থানার পুলিশ। ধৃতকে যখন চন্দননগর মহকুমা আদালতে তোলা হয়, তখন দলের স্থানীয় নেত্রী বেবী সিং তিওয়ারির নেতৃত্বে বিক্ষোভে দেখান বিজেপি কর্মী-সমর্থকরা।