আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের অস্বাভাবিক মৃত্যু ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন ও জল্পনা। ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ এবং বিজেপি নেত্রী অগ্নিমিত্রা পল। দু’জনের মন্তব্যে আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ের মৃত্যুর রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে।
রামপুরহাটের প্রাক্তন বিধায়ক অশিস বন্দ্যোপাধ্য়ায়ের মৃত্যু কীভাবে হয়েছে? সময়ে যতই যাচ্ছে বাড়ছে রহস্য। আশিস বন্দ্যোপাধ্য়ায় তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্য ছিলেন। তাঁর মৃত্যু স্বাভাবিক নয়, খুন করা হয়েছে কিনা তাই নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন অগ্নিমিত্রা পল। অন্যদিকে কুণাল ঘোষের অভিযোগ প্ররোচনা থেকেই এই আত্মহত্যা করেছেন আশিস। যদিও উদ্ধার হয়েছে একটি সুইসাইড নোট। সেটিও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
অগ্নিমিত্রা পলঃ
আশিস বন্দ্যোপাধ্য়ায় আদৌ আত্মহত্যা করেছেন না এটি স্বাভাবিক মৃত্যু- তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন রাজ্যের মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পল। তিনি বলেন, 'এটা দেখা দরকার। তিনি যে আত্মহত্যা করেছেন, খুন হননি, দেখতে হবে। লিখে গিয়েছেন মানেই আত্মহত্য়া, প্রথমেই সেটা আমি বলতে চাই না। এটা তো ঠিক, তৃণমূলের সবাই যে চোর, তাতো নয়। তাদের মধ্যেও কেউ কেউ আছেন যারা শিরদাঁড়়া সোজা করে রাজনীতি করেছেন।'
কুণাল ঘোষঃ
আশিসের অস্বাভাবিক মৃত্যুর নেপথ্যে কারা প্ররোচনা দিয়েছিল, তা খুঁজে বার করে দোষীদের গ্রেফতারির দাবিতে সরব হলেন কুণাল ঘোষ। এ নিয়ে সমাজমাধ্যমে একটি ভিডিয়োও পোস্ট করেছেন তিনি। ভিডিয়োয় দেখা যাচ্ছে, গাড়ির ভিতরে বসে থাকা আশিসের উদ্দেশে চড়া গলায় হুমকি দিচ্ছেন এক যুবক। তাঁকে বলতে শোনা যাচ্ছে, 'বয়স কম হলে না চাবকে ছাল তুলে দিতাম।'
কুণালের অভিযোগ, ভিডিয়োয় দেখা ওই যুবক আদতে বিজেপির কর্মী, এবং আত্মহত্যায় প্ররোচনা দেওয়ার অভিযোগে অবিলম্বে তাঁকে গ্রেফতার করা উচিত। পাশাপাশি তাঁর আরও দাবি, এমন অপমানের শিকার হওয়ার পরেও ঋতব্রত শিবিরের কেউই আশিসের পাশে দাঁড়াননি। যদিও এই ভিডিওর সত্যতা যাচাই করেনি এশিয়ানেট নিউজ বাংলা। আশিস বন্দ্যোপাধ্য়ায়কে ঋতব্রত শিবিরে যোগ দেওয়ার জন্য ক্রমাগত চাপ দেওয়া হয়েছিল বলেও অভিযোগ করেন কুণাল ঘোষ। তিনি বলেন, 'আশিসদাকে চাপ দিয়েই ওই শিবিরে নেওয়া হয়েছিল। তিনি দলীয় নেতাদের বলার চেষ্টা করছিলেন, মমতাদির নেতৃত্বে থাকা ভাল। কিন্তু দুর্নীতির তদন্ত থেকে বাঁচতে ওদিকে যাওয়া কয়েক জন আশিসদাকে চাপ দিয়ে সঙ্গে থাকতে বাধ্য করেছিলেন। ‘ভাল তৃণমূল’ হয়েও বাঁচা যায় না। কারণ, ওখানকার পাঁচ-ছ’জন নিজের পাপ ঢাকার জন্য বিজেপির পা চাটতে গিয়েছে। সসম্মানে ওই রাজনীতি করা যায় না।'
ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়
অন্যদিকে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, '‘আশিসদার চলে যাওয়া নিয়ে কিছু বলার ভাষা আমাদের নেই। তিনি সর্বজনশ্রদ্ধেয়। ওঁর সুইসাইড নোট হৃদয়বিদারক। নানা বিষয়ে ওঁর আক্ষেপ আমরা শুনেছি। সরকার বদলের পর যা কিছু সামনে আসছিল, আমাদের মতো আশিসদাও তা নিয়ে ভেঙে পড়েছিলেন। গত ১৫ বছরে রাজ্য জুড়ে যে সংগঠিত লুট এবং অপরাধ চলেছে, তার কুশীলব হাতে গোনা কয়েক জন হলেও খেসারত আমাদের সকলকে দিতে হচ্ছে।'


