পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হলো পুরুলিয়া জেলার পুঞ্চার তৃণমূল কংগ্রেসের অঞ্চল সভাপতি দুলাল দত্তের (৫০)। ঘটনায় জেলার তৃণমূল নেতা, কর্মীদের মধ্যে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। দুলালবাবু পুঞ্চা ব্লকের ধাদকির বাসিন্দা ছিলেন। জেলায় দলের পুরনো নেতাদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন দুলালবাবু।

দলীয় সূত্রে খবর, বৃহস্পতিবার রাতে পুঞ্চা থেকে বাইক চালিয়ে ধাদকির বাড়ি ফেরার পথে লৌলাড়া সাব স্টেশন- এর কাছে খুকা মূলের কাছে রাস্তার উপরে পথ দুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় তাঁর। দুলালবাবুর সঙ্গী এক বাইক আরোহী সুনীল মাহাতোও দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বিবরণে জানা গিয়েছে, বাইক নিয়ে একটি গাড়িকে ওভারটেক করতে গিয়েই একটি বড় লরির সঙ্গে সংঘর্ষে মৃত্যু হয় দুলালবাবুর। 

 দুলাল বাবু দীর্ঘদিনের তৃণমূল কংগ্রেস কর্মী। বিগত দিনে পুঞ্চা ব্লক যুব তৃণমূল কংগ্রেসের সভাপতির পদ সামলেছেন তিনি। বর্তমানে  অঞ্চল সভাপতি পদে দায়িত্ব সামলাচ্ছিলেন তিনি। শুক্রবার সকাল থেকেই পুরুলিয়া সদর হাসপাতালে জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শোকগ্রস্ত তৃণমূল কর্মীরা প্রয়াত নেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে জড়ো হন। উপস্থিত ছিলেন পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুজয় বন্দোপাধ্যায়, পঞ্চা পঞ্চায়েত সমিতির সভাপতি কৃষ্ণচন্দ্র মাহাতো, পঞ্চা ব্লক যুব তৃণমূল কংগ্রেসের কার্যকরী সভাপতি চরণ দাস সহ তৃণমূলের কর্মী-সমর্থকরা।  এ দিন দুপুর বারোটা নাগাদ পুরুলিয়া সদর হাসপাতাল থেকে দুলাল দত্তের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় দলের জেলা দলীয় কার্যালয়ে। সেখানে প্রয়াত সহকর্মীকে মাল্যদান করে শেষ শ্রদ্ধা জানান দলের নেতা কর্মীরা।

পুরুলিয়া জেলা পরিষদের সভাধিপতি সুজয় বন্দ্যোপাধ্যায় দুলালবাবুর স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন। তিনি বলেন, 'দুলাল দত্তের মৃত্যুতে অপূরণীয় ক্ষতি হল। দুলালবাবু দলের দীর্ঘদিনের একনিষ্ঠ সৈনিক এবং প্রকৃত নেতা ছিলেন।' ময়নাতদন্তের পর দুলাল বাবুর মৃতদেহ তৃণমূল কংগ্রেসের দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মালা দিয়ে তাঁকে শেষ শ্রদ্ধা জানান দলের নেতা কর্মীরা। পরে মৃতদেহ নিয়ে যাওয়া হয় পুঞ্চার গ্রামের বাড়িতে।