আশিষ মণ্ডল, বীরভূম:  বিধানসভা ভোটের আগে কি তাহলে অনুব্রতের গড়েও থাবা বসাবে বিজেপি? সমস্ত জল্পনায় জল ঢেলে দিলেন নলহাটি  ২ নম্বর ব্লকের তৃণমূল সভাপতি বিভাসচন্দ্র অধিকারী। জানিয়ে দিলেন, 'আমি কোনও পদত্যাগপত্র জমা দিইনি। যদি কেউ দিয়ে থাকে, তাহলে আমার প্যাড ও সই নকল করেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন জেলা সভাপতি।'

আরও পড়ুন: পুরুলিয়ার সুখা মাটিতে শক্তি বাড়ছে পদ্মফুলের, পঞ্চায়েত থেকে ঘাসফুলে ধস

ঘটনাটি ঠিক কী? বীরভূমের নলহাটি ২ নম্বর ব্লকের নবহিমাইতপুর গ্রামে অনুকূল ঠাকুরের আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেছেন তৃণমূল তথা দলের ব্লক সভাপতি বিভাসচন্দ্র অধিকারী। প্রতিবছর অনুকূল ঠাকুরের আবির্ভাব তিথিতে দু'দিন ধরে উৎসব চলে আশ্রমে। বছর তিনেক আগে আশ্রমের বার্ষিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন বিজেপি নেতা কৈলাস বিজয়বর্গীয়। তখন তিনি আবার এ রাজ্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষকও ছিলেন। তা নিয়ে বিতর্কও কম হয়নি। 

গত রবিবার কলকাতা থেকে ঝটিকা সফরে তৃণমূল নেতার আশ্রমে হাজির হন বিজেপি নেতা মুকুল রায়। তাঁর সঙ্গে আশ্রম চত্বরে ঘুরতে দেখা যায় শাসকদলের আরও বেশ কয়েকজন নেতাকে। এরপর দুপুরে খাওয়া দেওয়া সেরে কলকাতায় ফিরে যান মুকুল। নবহিমাইতপুর গ্রামে যিনি অনুকূল ঠাকুরের আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেছেন, সেই বিভাসচন্দ্র অধিকারী কি তাহলে বিজেপিতে যোগ দিচ্ছেন? জল্পনা তুঙ্গে ওঠে রাজনৈতিক মহলে। যদিও সেই সম্ভাবনা কথা কিন্তু খারিজ করে দিয়েছিলেন মুকুল রায় নিজেই। 

আরও পড়ুন:ঝাড়গ্রামে মাওবাদী উত্থান নিয়ে বৈঠকে রাজ্য পুলিশের কর্তারা, ঘুরে দেখলেন বেলপাহাড়ির এলাকা

এরইমধ্যে আবার অভিযোগ ওঠে,  তৃণমূল নেতা বিভাসচন্দ্র অধিকারীর প্যাড ব্যবহার করে কেউ বা কারা দলের জেলা সভাপতি অনুব্রত মণ্ডলের কাছে পদত্যাগপত্র পাঠিয়ে দিয়েছে। আশ্রম প্রাঙ্গনেই শনিবার সাংবাদিক নলহাটি ২ নম্বর ব্লকে শাসকদলের সভাপতি বলেন, 'আমার আশ্রমের সমস্ত রাজনৈতিক দল ও ধর্মের মানুষেরা আসেন। মুকুলবাবুও এসেছিলেন। কোনও আশ্রমে এলে তাঁর সম্মান করা  আমার কর্তব্য। মুকুলবাবুর সঙ্গে কোনও বৈঠক করিনি। তৃণমূল ছাড়ছি না।' বিভাসবাবুর আরও বক্তব্য, 'দল যদি মনে করে আমায় সরিয়ে দিতে পারে।' সাংবাদিক সম্মেলেন হাজির ছিলেন তৃণমূলের বীরভূম জেলার সহ-সভাপতি ত্রিদিব ভট্টাচার্য-সহ আরও অনেকেই।