রামপুরহাট ২ নম্বর ব্লকের দুনিগ্রাম স্বাস্থ্যকেন্দ্র থেকে প্রাচীন একটি শিশু গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ উঠল তৃণমূল নেতাদের বিরুদ্ধে। যদিও অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা মফিজউদ্দিন আহমেদ এবং তাঁর অনুগামীরা। তাঁদের দাবি, গাছের কিছু ডাল কাটা হয়েছে। তবে গাছ কাটার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন স্বাস্থ্যকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত চিকিৎসক।

রামপুরহাট ২ নম্বর ব্লকের দুনিগ্রাম স্বাস্থ্যকেন্দ্রের একটি শিশু গাছ কাটার অভিযোগ উঠেছে তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতির মফিজউদ্দিন আহমেদ এবং পঞ্চায়েত সমিতির সদস্যার স্বামী মৌলা বক্সের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, তাঁদের মদতে একটি শিশু গাছ কাটার পাশাপাশি একটি জাম গাছও কাটা শুরু করেছিল। কিন্তু এলাকার মানুষের বাধায় শেষ পর্যন্ত জাম গাছটি রক্ষা পায়। প্রকাশ্যে গাছ কাটা হলেও দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক কেন পুলিশ ডাকলেন না, সেই প্রশ্ন উঠছে। প্রতিবাদে মঙ্গলবার সকালে চিকিৎসককে ঘিরে ক্ষোভ প্রকাশ করেন গ্রামবাসীদের একাংশ। 

গ্রামের বাসিন্দা নিজামউদ্দিন শেখ, হুমায়ুন চৌধুরী বলেন, 'কয়েক দিন থেকে পঞ্চায়েতের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এলাকা পরিস্কারের কাজ চলছে। ভাঙা ঘরে রঙের প্রলেপ দেওয়া হচ্ছে। এরই ফাঁকে সোমবার সকালে একটি শিশু গাছ কেটে নেওয়া হয়েছে। কিন্তু সে সময় গ্রামের মানুষ ভয়ে কিছু বলতে পারেননি। আমরাও তৃণমূল করি। কিন্তু অভিযুক্ত তৃণমূলের অঞ্চল সভাপতি হওয়ায় ভয়ে কেউ বাধা দিতে সাহস পাননি।'

যদিও গাছ কাটার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অঞ্চল সভাপতি মফিজউদ্দিন আহমেদ এবং মৌলা বক্স। মফিজউদ্দিন বলেন, 'স্বাস্থ্যকেন্দ্রের এলাকা পরিষ্কার রাখতে কিছু গাছের ডাল কাটা হয়েছে। কিন্তু তার জন্য বন দফতরের অনুমোদন লাগে জানা ছিল না।' স্বাস্থ্যকেন্দ্রের চিকিৎসক সুদীপ্ত সিনহা বলেন, 'সোমবার খবর পেয়ে আমি এলাকার ছবি তুলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছি।
গাছ কাটার কথাও জানিয়েছি। তবে যেহেতু স্বাস্থ্যকেন্দ্রের মধ্যে সবসময় জেসিবি, ট্র্যাক্টর ঢুকছে, ফলে কারা গাছ কেটে নিয়ে গেল বুঝতে পারিনি। তাছাড়া আমি রোগী দেখতে ব্যস্ত ছিলাম।'

পঞ্চায়েত প্রধান সরমা লেট বলেন, 'আমি কিছু জানি না। সব অঞ্চল সভাপতি জানেন।'  বন দফতরের তুম্বুনি রেঞ্জের আধিকারিক সুশেন কর্মকার বলেন, 'গাছ কাটার বিষয়টি আমাদের জানা নেই। পঞ্চায়েত কিংবা স্বাস্থ্য দফতর কোন পক্ষ থেকেও জানানো হয়নি। তবে যখন জানতে পারলাম, অভিযোগের তদন্ত করে দেখা হবে।'