জেলা প্রশাসনকে বুড়ো আঙ্গুল দেখিয়ে অবৈধভাবে নদী থেকে বালি চুরি চলছে উত্তর দিনাজপুরে। আর সেই বালি পাচার চক্রের সঙ্গে তৃণমূল নেতারাই জড়িত বলে অভিযোগ তুললেন বিজেপি বিধায়ক। প্রকাশ্যেই রমরমা বালি পাচারের কারবার চললেও এখনও অভিযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে প্রশাসন। 

উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ ব্লকের খাড়ি জগদীশপুর এলাকার মধ্যে দিয়ে গিয়েছে নাগর নদী। অভিযোগ, সেই নদী থেকেই অবৈধভাবে বালি তুলে তা পাচার করা হচ্ছে। অভিযোগ উঠেছে তৃণমুল কংগ্রেস আশ্রিত বালি মাফিয়াদের বিরুদ্ধে। হেমতাবাদের বিজেপি বিধায়ক দেবেন রায়ের অভিযোগ, কাটমানির বিনিময়ে এই বালি পাচারের কারবার চালাতে সাহায্য করছেন তৃণমূল নেতারা।  

অভিযোগ, নদীর জল কমে গেলে এমনিতেই ট্যাক্টর নামিয়ে বালি তুলে তা পাচার করা হয়। আর নদীতে জল থাকলে পাম্প দিয়ে জল ছেঁচে যন্ত্রের সাহায্যে বালি তুলে তা পাচার করা হচ্ছে। এর ফলে একদিকে যেমন সরকারি রাজস্বের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে ক্ষতি হচ্ছে নদী বাঁধেরও। 

এলাকার বাসিন্দাদের অভিযোগ, প্রশাসনের কাছে বহুবার অভিযোগ করেও কোনও সুরাহা হয়নি। বিজেপি বিধায়ক দেবেনবাবু দাবি, তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে প্রশাসনের একাংশের যোগসাজসেই দিনের পর দিন এই অবৈধ কারবার চলছে। রায়গঞ্জ ব্লকের বিএলআরও রাজীব গোস্বামীর অবশ্য দাবি, তিনি নতুন দায়িত্ব নিয়েছেন। ফলে তাঁর কাছে এ বিষয়ে এখনও কোনও অভিযোগ জমা পড়েনি। অভিযোগ পেলে তিনি বিষয়টি খতিয়ে দেখবেন।  এখনও পর্যন্ত তাঁর কাছে কোনও লিখিত অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ এলে বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন তিনি।

প্রশাসনের কর্তারা কিছু না জানলেও নাম প্রকাশ্যে অনিচ্ছুক এক গ্রামবাসী বলেন, 'তৃণমূলের লোকেরাই এর সঙ্গে যুক্ত। সবাই সব জানে। বালি তুলে তুলে নদীর বাঁধ ভাঙছে। এর পরে জল ঢুকে আমাদের গ্রাম ধ্বংস হয়ে যাবে।' গ্রামবাসীদের অভিযোগ, ভোর ছ'টা থেকে সন্ধে পর্যন্ত লরি করে বালি পাচার চলে। অধিকাংশ বালিই বিহারে পাঠানো বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। লরি চলাচলের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে গ্রামের রাস্তাও। 

যদিও বালি পাচার চক্রের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব। ব্লক তৃণমূল সভাপতি পূর্ণেন্দু দে বলেন, 'কোথাও কোনও দুর্নীতি দেখলেই তার সঙ্গে তৃণমূলের নাম জড়িয়ে ফেলাটা অভ্যাসে পরিণত করে ফেলেছে বিজেপি। তৃণমূলের কেউ বালি পাচারের সঙ্গে যুক্ত নন। আমরাও চাই প্রশাসন যথাযথ তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি দিক।'