অন্য দলের ক্ষেত্রে সবাই স্বাগত। কিন্তু তৃণমূল থেকে বিজেপি-তে আসতে গেলে লাগবে এনওসি। শুধু তাই নয়, তৃণমূলের কোনও জনপ্রতিনিধি তাদের দলে যোগ দিতে গেলে তাঁকে পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে আসতে হবে বলেও সিদ্ধান্ত নিয়েছে রায়গঞ্জ জেলা বিজেপি নেতৃত্ব। 

জেলা বিজেপি’র পক্ষ থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, শাসকদলের কোনও নেতা বা জনপ্রতিনিধি দলে যোগ দিতে চাইলে তাদের কতগুলি শর্ত মেনে চলতে হবে। দলের সাধারণ কর্মীরাও এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। জেলা তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে পাল্টা দাবি করে বলা হয়েছে, তাদের দলের কেউই বিজেপিতে যোগ দিচ্ছে না।

রায়গঞ্জ লোকসভা কেন্দ্রে এবার জিতেছে বিজেপি। বিজেপি প্রার্থী দেবশ্রী চৌধুরী জিতে সাংসদ এবং মন্ত্রীও হয়েছেন। স্বাভাবিক ভাবেই এর পরে গোটা উত্তর দিনাজপুর জেলাতেই তৃণমূল-সহ অন্যান্য দল থেকে বিজেপি-তে আসার ভিড় বাড়ছে। এই অবস্থায় বিতর্কিত তৃণমূল নেতা, কর্মীদের দল থেকে দূরে রাখতেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিজেপি-র জেলা নেতৃত্ব। অবশ্যই সেই সিদ্ধান্ত জেলা স্তরেই প্রযোজ্য। কারণ রাজ্য বিজেপি-র পক্ষ থেকে  দল বদলে আগ্রহী তৃণমূল নেতাদের জন্য এখনও সেরকম কোনও শর্ত দেওয়া হয়নি। 


বিজেপি’র জেলা সভাপতি নির্মল দাম জানিয়েছেন, তৃণমূল থেকে কোনও জনপ্রতিনিধি জেলা নেতৃত্বের মাধ্যমে বিজেপি-তে যোগ দিতে চাইলে আগে তাঁকে নিজের পদ থেকে ইস্তফা দিতে হবে। তাহলেই তাঁকে দলে নেওয়ার উপযুক্ত বলে গণ্য করা হবে। পরে ওই একই আসন থেকে প্রয়োজনে ওই তৃণমূল নেতা নির্বাচনে জিতে আসতে পারেন। আর যাঁরা তৃণমূলের কর্মী বা সমর্থক, তাঁদেরকে নিজের এলাকার বিজেপি-র মণ্ডল কমিটি এবং এলাকার বাসিন্দাদের থেকে এনওসি বা ছাড়পত্র নিয়ে আসতে হবে। তবে অন্য কোনও দলের নেতা বা কর্মীদের ক্ষেত্রে এমন শর্ত দেওয়া হচ্ছে না বলে জানিয়েছেন বিজেপি জেলা সভাপতি। 

ত়ৃণমূল অবশ্য বিজেপি-র এই শর্তকে গুরুত্ব দিতে নারাজ। দলের জেলা সভাপতি কানাইয়ালাল আগরওয়াল জানিয়েছেন, 'এই  জেলায় কংগ্রেস ও সিপিএমের ভোট বিজেপিতে চলে যাওয়ায় লোকসভায় আমরা হেরেছি। জেলায় আমাদের সংগঠন দুর্বল হয়নি। আমাদের দলের কোনও নেতা বা জনপ্রতিনিধি বিজেপিতে যোগদান করছে না।’