উত্তম দত্ত, হুগলি: চলতি বছরই বিয়ে হয়েছে। জেলার বিধায়কদের মধ্যে তিনিই সর্বকনিষ্ঠ। ফলে একটা আশঙ্কা ছিলই গোঘাটের তৃণমূল বিধায়ক মানস মজুমদারের মনে। সেটাই শেষ পর্যন্ত সত্যি হল। বিধায়ক হলেও ছাড় পেলেন না তিনি। গোঘাটের তৃণমূল বিধায়কের বাড়িতেই বৃহস্পতিবার রাতে কেউ বা কারা কার্তিক ফেলে গিয়েছে। ফলে, সব কাজকর্ম ভুলে এবার কার্তিক পুজোর আয়োজনে বাধ্য হয়েছেন তৃণমূলের এই তরুণ বিধায়ক!

গত বিধানসভা নির্বাচনে গোঘাট থেকে জিতেছিসেন মানস মজুমদার। গত ১৫ অগাস্ট বিয়ে করেছেন তিনি। নববিবাহিত দম্পতিদের বাড়িতে কার্তিক ফেলার রীতি রয়েইছে। ফলে বাড়িতে কার্তিক পড়ার একটা 'ঝুঁকি' তৃণমূল বিধায়কের ক্ষেত্রেও ছিল। কিন্তু খোদ শাসক দলের বিধায়কের বাড়ি বা অফিসে কার্তিক ফেলার সাহস হবে না বলেই খানিক নিশ্চিন্ত ছিলেন মানসবাবু। শেষ পর্যন্ত অবশ্য তাতেও কার্তিকে আগমন রোখা যায়নি।

আদতে আদিসপ্তগ্রামের বাসিন্দা মানসবাবু গোঘাট থানার পাশেই একটি বাড়ি ভাড়া নিয়ে থাকেন। বাড়ির দোতলায় স্ত্রীকে নিয়ে থাকেন মানসবাবু। একতলায় তাঁর কার্যালয়। বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে দশটা নাগাদ সেখানেই কয়েকজন যুবক এসে কার্তিক রেখে যান। বিধায়ক জানিয়েছেন, এঁরা প্রত্যেকেই তাঁর পরিচিত। বিধায়কের কার্যালয়ে থাকা দু'- একজন কর্মী বেরিয়ে এসে তাঁদের দেখতেও পান। এর পর কার্তিক ফেলার আনন্দে বিধায়কের অফিসের সামনে বাজিও ফাটানো হয়। গোটা বিষয়টা অবশ্য মজাচ্ছলেই নিয়েছেন মানসবাবু। 

বিধায়ক অবশ্য জানিয়েছেন, সব নিয়ম মেনে কার্তিক পুজোর আয়োজন তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। তাই শুক্রবার গাড়ি করে কার্তিককে ঠাকুরকে নিজের আদিসপ্তগ্রামের বাড়িতে পাঠিয়ে দিয়েছেন মানসবাবু। তিনি বলেন, 'আমি পুজোর সব নিয়ম জানি না। তাই বাড়িতে মা, কাকিমারাই পুজোর আয়োজন করবেন। আমি স্ত্রীকে নিয়ে সেখানে যাবো।' শনিবারই কার্তিক পুজোর জন্য আদি সপ্তগ্রামের বাড়িতে চলে আসছেন মানসবাবু। এমনিতেই রাজনৈতিক ব্যস্ততার কারণে সেভাবে বাড়ি আসার সময় পান না। কার্তিক পুজোর জন্য তবু কয়েকটা দিন বাড়িতে কাটানোর সুযোগ এল। তাই রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড ভুলে আপাতত কার্তিক পুজো নিয়েই ব্যস্ত থাকবেন বিধায়ক। যাঁরা কার্তিক ঠাকুর ফেলেছিলেন, পুজোয় নেমতন্ন রয়েছে তাঁদেরও।