বক্তৃতার শুরু থেকেই প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন রাহুল। তিনি বলেন, নরেন্দ্র মোদী তাঁর চোখে চোখ রেখে কথা বলার সাহস পান না। তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী যেমন দেশের শিল্প ব্যবস্থার ক্ষতি করছেন, তেমনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার কারখানাগুলো বন্ধ করে দিয়েছেন।

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজ্যে এসে রাজনৈতিক উত্তাপ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। মঙ্গলবার উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ এবং মুর্শিদাবাদের শামসেরগঞ্জে আয়োজিত একাধিক নির্বাচনী জনসভা থেকে তিনি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে একই মুদ্রার দুই পিঠ হিসেবে বর্ণনা করে তীব্র আক্রমণ শানান। রাহুলের সবচেয়ে বড় অভিযোগ ছিল— “তৃণমূলই আসলে বিজেপির পথ খুলে দিচ্ছে”। তাঁর দাবি, তৃণমূল সরকার যদি রাজ্যে নিজের কাজ ঠিকমতো করত এবং কর্মসংস্থান ও উন্নয়নের দিকে নজর দিত, তবে বিজেপি বাংলায় প্রবেশের সুযোগ পেত না।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

এদিন বক্তৃতার শুরু থেকেই প্রধানমন্ত্রীকে লক্ষ্য করে আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিলেন রাহুল। তিনি বলেন, নরেন্দ্র মোদী তাঁর চোখে চোখ রেখে কথা বলার সাহস পান না। তিনি অভিযোগ করেন, প্রধানমন্ত্রী যেমন দেশের শিল্প ব্যবস্থার ক্ষতি করছেন, তেমনই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাংলার কারখানাগুলো বন্ধ করে দিয়েছেন। রাহুলের ভাষায়, বাংলার শিল্প ও যুবসমাজ আজ ‘ডাবল অ্যাটাক’ বা দ্বিমুখী আক্রমণের শিকার।

দুর্নীতির ইস্যুতেও দুই শাসক দলকে একসারিতে দাঁড় করিয়েছেন রাহুল। তিনি স্পষ্ট জানান, “নরেন্দ্র মোদী দুর্নীতিবাজ হলে তৃণমূলও কিছু কম নয়”। সারদা ও রোজভ্যালি চিটফান্ড কেলেঙ্কারির প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, বিনিয়োগকারীদের হাজার হাজার কোটি টাকা আজও ফেরত দেওয়া হয়নি। তাঁর মতে, শাসক দলের প্রশ্রয়েই বাংলায় ‘সিন্ডিকেট রাজ’ ও ‘গুন্ডা ট্যাক্স’ সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের কোনো উপকারে আসছে না।

রাজ্যের কর্মসংস্থান পরিস্থিতি নিয়ে রাহুল কড়া তথ্য পেশ করেন। তিনি অভিযোগ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ৫ লক্ষ চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু বাস্তবে আজ ৮৪ লক্ষ যুবক বেকার ভাতার জন্য আবেদন করেছেন। এর পাশাপাশি আরজি কর-কাণ্ড এবং কংগ্রেস কর্মীদের ওপর শারীরিক হামলার প্রসঙ্গ তুলে তিনি রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলার চরম অবনতি নিয়ে সরব হন। কংগ্রেস নেতা তপন কুণ্ডুর খুনের ঘটনার উল্লেখ করে তিনি তৃণমূলের ‘হিংসার রাজনীতি’র কড়া সমালোচনা করেন।

এই নির্বাচনের লড়াইয়ে কংগ্রেস রাজ্যে এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে এবং মালদহ ও মুর্শিদাবাদের মতো নিজেদের পুরনো শক্তিশালী ঘাঁটিগুলো পুনরুদ্ধারে মরিয়া। রাহুল গান্ধীর এই সফর মূলত ভোটারদের কাছে এই বার্তাই পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা যে, তৃণমূল ও বিজেপি একে অপরের পরিপূরক এবং কংগ্রেসই একমাত্র বিকল্প।