TMC-র ১০ জন বিদ্রোহী বিধায়কের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে? বিধায়কদের পদ খারিজের মামলায় সুপ্রিম কোর্ট স্পিকারকে সময়সীমা বেঁধে দিল না। জানুন মামলার আপডেট।

দলত্যাগ বিরোধী আইনে ঋতব্রত বন্দ্য়োপাধ্যায়-সহ ১০ তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী বিধায়কের বিধায়কপদ খারিজ করা হোক। এমনই আর্জি নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল কালীঘাটপন্থী তৃণমূল নেতা শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়। সোমবার এই মামলার শুনানিতে বিধানসভার স্পিকার রথীন্দ্রনাথ বসুকেই শেষ সিদ্ধান্ত নিতে হবে বলে জানিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। একটি ডেডলাইন দিলেও তাতে রয়েছে একটি ছাড়!

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ

প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের বেঞ্চ জানিয়েছে, ২০২১ সালের সুপ্রিম কোর্টের একটি রায়ে বলা হয়েছে কোনও বিধায়কের বিরুদ্ধে দলত্যাগ বিরোধী আইন বা বিধায়ক পদ খারিজ নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওযার সাংবিধানিক ক্ষমতা স্পিকারের হাতেই রয়েছে। এর জন্য স্পিকারকে উপযুক্ত সময় দেওয়া হবে। সাধারণত ৩-৪ মাসের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত উচিৎ। স্পিকার সেই সময়ের মধ্যেই সিদ্ধান্ত নেবেন বলে আশাপ্রকাশ করে শীর্ষ আদালত। প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ জানায়, এই মামলায় নতুন করে আর কোনও নির্দেশ দেওয়া হবে না। মোটকথা সোমবার এই মামলার শুনানির সময় সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির বেঞ্চ বিদ্রোহী তৃণমূল বিধায়কদের বিষয়টা নিষ্পত্তির বিষয় স্পিকারের কোর্টেই বল ঠেলে দিলেন। বিচারপতিরা জানিয়েছেন আগামী ৮ অক্টোবরের মধ্যে বিষয়টা নিষ্পত্তি করতে হবে।

জয়মাল্য বাগচীর মন্তব্য

এই বিষয় নিয়ে জয়মাল্য বাগচী বলেন, 'আমরা নিজেরাই অনেক সময় ডেডলাইন মানতে পারি না। তাই নির্দেশ দেওয়ার আগে এটা মাথায় রাখতে হবে। যুক্তিসঙ্গত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত নিতে হবে স্পিকারকে। '

বিরোধী দলনেতার মনোনয়ন নিয়ে স্পিকারের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আগেই কলকাতা হাই কোর্টে মামলা করেছিলেন বিরোধী দলনেতা পদে মমতা শিবিরের ঘোষিত বিধায়ক শোভনদেব। সেই মামলা বর্তমানে হাই কোর্টে বিচারাধীন। তার পর সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়ে শোভনদেবের আবেদন, ঋতব্রত-সহ তাঁর শিবিরের বিধায়কদের দলত্যাগ-বিরোধী আইনে বিধায়কপদ খারিজ করা হোক। গত ১৬ সেপ্টেম্বরে এই বিষয়ে ১০ বিধায়ককে নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করতে বলেন বিধানসভার স্পিকার। মমতা এবং ঋতব্রত শিবিরের দ্বন্দ্বের মধ্যেই গত ১৭ সেপ্টেম্বর রাতে একটি অন্তর্বর্তী নির্দেশ দেয় নির্বাচন কমিশন। কমিশনের তরফে জানানো হয়, আপাতত দলের নাম হিসেবে ‘সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস’ এবং প্রতীক জোড়াফুল ‘ফ্রিজ়’ করছে তারা। কমিশন জানিয়ে দেয়, তৃণমূলের ‘জোড়াফুল’ আপাতত তাদের সিন্দুকে জমা রাখা হচ্ছে। দল কার, আসল তৃণমূল কে, দলের তহবিলের মালিকানা কোন গোষ্ঠীর— ইত্যাদি চূড়ান্ত হওয়ার পরেই সেই সিন্দুকের তালা খোলা হবে।