উত্তম দত্ত, হুগলি:  এলাকায় মুড়ি-মুড়কির মতো পড়ল বোমা, চলল গুলির লড়াই। রাজ্যের শাসকদলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে প্রাণ হারালেন এক তৃণমূল কর্মী। গুরুতর জখম হয়েছেন তাঁর ভাইও। দু'পক্ষের সংঘর্ষে কম-বেশি আঘাত পেয়েছেন আরও পাঁচজন। সকলেই ভর্তি হাসপাতালে। রণক্ষেত্রের চেহারা নিল হুগলির আরামবাগ।

আরও পড়ুন: অর্জুন সিংয়ের বাড়িতে আচমকা পুলিশ, ওয়ারেন্ট না নিয়ে ঢুকতে গেলে বাধা

একজন প্রাক্তন বিধায়ক, আর এক স্থানীয় নেতা। তৃণমূলের দুই  গোষ্ঠীর বিবাদে ছোট-খাটো অশান্তি লেগেই থাকত আরামবাগের হরিণখোলা গ্রামে। পরিস্থিতির ভয়াবহ আকার নেয় বৃহস্পতিবার দুপুরে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অবশ্য দাবি, বুধবারও দিনভর তৃণমূলেপ দু'টি গোষ্ঠীর মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ চলে। রাতে চাপা উত্তেজনা ছিল এলাকায়। সকালেও পরিবেশ যথেষ্ট থমথমে ছিল। বেলা গড়াতে সংঘর্ষ চরম আকার নেয়। গুলি ও বোমা নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে তৃণমূলের দু'টি গোষ্ঠী। সংঘর্ষের মাঝে পড়ে বোমার আঘাতে প্রাণ হারান ইসরাইল খান নামে এক যুবক। তিনি এলাকায় তৃণমূল কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিল। পরিবারে লোকের দাবি, মৃতের ভাই হাসিবুল খানও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।   ঘটনার পর দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে পথ অবরোধ করেন বিক্ষোভ দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা। তাতে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে ঘটনাস্থলে যান হুগলির (গ্রামীণ) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, আরামবাগ থানার আইসি-সহ জেলা পুলিশের পদস্থ আধিকারিকরা। 

আরও পড়ুন: ছাগলে ধান খাওয়া নিয়ে বিবাদ, দাদার হাতে 'খুন' হয়ে গেল ভাই

আরামবাগের হরিণখোলা গ্রামটি পুরশুড়া বিধানসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত। স্থানীয় পঞ্চায়েত প্রধান তথা তৃণমূল নেতা আব্দুল আজিজ খান ওরফে লাল্টু বলেন, নিহত ইসরাইল খান তাঁর অত্যন্ত ঘনিষ্ট ছিলেন। কিন্তু তাঁকে যারা খুন করেছে, তারা দুষ্কৃতী। এর সঙ্গে তৃণমূলের কোনও সম্পর্ক নেই। তবে অভিযুক্তেরা দলের কেউ কিনা, তাও খতিয়ে দেখা হবে। দু'জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।