কোচবিহারে দলের খারাপ ফলের মাশুল দিয়ে পদ ছাড়তে হচ্ছে উত্তরবঙ্গ উন্নয়ন মন্ত্রী রবীন্দ্রনাথ ঘোষকে। আপাতত তাঁর মন্ত্রিত্ব থাকলেও জেলা সভাপতির পদ থেকে রবীন্দ্রনাথবাবুকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দল। তাঁর জায়গায় নতুন জেলা সভাপতি করা হচ্ছে বিনয়কৃষ্ণ বর্মণকে। 

প্রসঙ্গত এবারের নির্বাচনে কোচবিহার আসনটি দখল করেছে বিজেপি। তৃণমূলেরই প্রাক্তন যুব নেতা  নিশীথ প্রামাণিক ওই কেন্দ্র থেকে জয়ী হয়েছেন। সবথেকে আশঙ্কার কথা, জেলার সাতটি বিধানসভার মধ্যে পাঁচটিতেই পিছিয়ে পড়েছে তৃণমূল। নিজের কেন্দ্র নাটাবাড়ি থেকে পিছিয়ে পড়েছেন রবীন্দ্রনাথবাবু নিজেই। হারের পর থেকেই রবীন্দ্রনাথবাবুর বিরুদ্ধে জেলার অনেক নেতাই সরব হয়েছিলেন। এমন কী, তাঁর ডাকা ভোটের ফলের পর্যালোচনা বৈঠকেও হাজির হননি সব বিধায়ক। 

রবীন্দ্রনাথবাবুকে নিয়ে জেলা নেতাদের এই অসন্তোষের কথা দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ তৃণমূলের শীর্ষ নেতৃত্বের কানেও পৌঁছয়। তার পরেই রবীন্দ্রনাথবাবুকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দলের কাছে জেলার অধিকাংশ নেতাই অভিযোগ করেন, রবীন্দ্রনাথবাবু জেলার সব নেতাদের নিয়ে একসঙ্গে কাজ না করাতেই কোচবিহারে ভরাডুবি হয়েছে দলের। 

উত্তরবঙ্গে সামগ্রিকভাবেই এবার তৃণমূলের ফল খুব খারাপ হয়েছে। উত্তরবঙ্গের কোনও আসনেই জিততে পারেনি রাজ্যের শাসক দল। তা নিয়ে উত্তরবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অরূপ বিশ্বাসের সামনেই দলীয় বৈঠকে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তবে রবীন্দ্রনাথবাবুর জায়গায় যাঁকে জেলা সভাপতির দায়িত্ব দেওয়া হল, সেই বিনয়কৃষ্ণ বর্মণের দফতরও কয়েকদিন আগে কেড়ে নেওয়া হয়েছে। তাঁর জায়গায় বন দফতরের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে দমকল মন্ত্রী সুজিত বসুকে। আপাতত দফতরহীন মন্ত্রী হিসেবেই রয়েছেন বিনয়কৃষ্ণ বর্মণ। তাঁকে সভাপতি করার পরে কোচবিহারে শাসক দলের হারানো জমি পুনরুদ্ধার হয় কি না, সেটাই এখন দেখার।