TMCP: রাজ্যের শাসক দলের ছাত্র সংগঠন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের ব্লক সভাপতি ঘিরে জলপাইগুড়ির ধূপগুড়িতে জাত-ধর্মের মেরুকরণ স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। ফলে অস্বস্তিতে পড়ে গিয়েছে শাসক দল।
KNOW
West Bengal Politics: জলপাইগুড়ি (Jalpaiguri) জেলার ধূপগুড়িতে (Dhupguri) তৃণমূল ছাত্র পরিষদের (TMCP) ব্লক সভাপতি পদকে কেন্দ্র করে ২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের (2026 West Bengal Legislative Assembly election) আগে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে উঠেছে। এই বিতর্কটি মূলত সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে দলের অন্দরেই জাতিগত ও ধর্মীয় মেরুকরণের স্পষ্ট ইঙ্গিত দেখা যায়। ব্লক সভাপতির নাম ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ফেসবুক-সহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক পোস্ট এবং পাল্টা পোস্ট শুরু হয়। এক পক্ষ চাইছিল স্থানীয় অঞ্চলের ভূমিপুত্র তথা রাজবংশী সম্প্রদায়ের দীর্ঘদিনের ছাত্র নেতা তথা ধুপগুড়ি তৃণমূল ছাত্র পরিষদের দীর্ঘদিনের ব্লক সভাপতি পদের দায়িত্বে থাকা কৌশিক রায়ের নাম গুরুত্বপূর্ণ পদের দায়িত্ব দেওয়া হোক। অন্যদিকে, অপর একটি গোষ্ঠী সংখ্যালঘু প্রতিনিধিকে সভাপতি করার দাবি তোলে। শেষপর্যন্ত ধূপগুড়ি ব্লক টিএমসিপি সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন অর্ধেন্দু চক্রবর্তী। যুগ্ম সহ-সভাপতি হয়েছেন ভাস্কর রায় ও আজিমুল হক।
শাসক দলের ছাত্র সংগঠনের দ্বন্দ্ব
এদিকে ধুপগুড়িতে 'তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি রাজবংশী মুখ চাই' এমন পোস্টে সরাসরি কৌশিক রায়ের ছবি দিয়ে পোস্ট করা হলেও অন্য গোষ্ঠীর তরফে 'কেবলমাত্র সংখ্যালঘু মুখ চাই', এমনটাই তুলে ধরা হয়েছে। সরাসরি কারও ছবি পোস্ট করা হয়নি। ২০২৬-এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে এই ধরনের অভ্যন্তরীণ বিবাদ দলের ভাবমূর্তিকে প্রভাবিত করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। যদিও তৃণমূল কংগ্রেসের উচ্চ নেতৃত্ব বা জেলা কমিটি এখনও এই বিষয়ে কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে ধূপগুড়ির রাজনৈতিক মহলে এটি নিয়ে ব্যাপক শোরগোল চলছে।
অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কথা অস্বীকার
তবে এ বিষয়ে কৌশিক রায়ের সাফ দাবি, তৃণমূল কংগ্রেস ছাত্র পরিষদ কখনও ধর্মীয় ভেদাভেদ কিংবা ধর্ম নিয়ে রাজনীতি করে না। সম্প্রীতির বাতাবরণে তৃণমূল কংগ্রেস চলে। পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমের এই পোষ্টে কোনওরকম গোষ্ঠী কোন্দল নেই বলেও দাবি কৌশিক রায়ের। এই দ্বন্দ্ব তৃণমূলের ছাত্র সংগঠনের সাংগঠনিক স্থিতিশীলতাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের রাজবংশী ভোটব্যাঙ্ক ধরে রাখার লড়াইয়ে এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
আরও খবরের আপডেট পেতে চোখ রাখুন আমাদের হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।


