Dumper Hijack Case: ডাম্পার হাইজ্যাক ও চালক অপহরণের অভিযোগ উঠেছে এক তৃণমূল কর্মীর বিরুদ্ধে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ। অভিযোগের বিস্তারিত, তদন্তের অগ্রগতি এবং প্রশাসনের পদক্ষেপ জেনে নিন।
মমতা জমানা শেষ হওয়ার পরেও তৃণমূল কংগ্রেস নেতাদের দৌরাত্ম্য অব্যাহত রয়েছে। তার নজির আবারও দেখল উত্তরবঙ্গ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী জেলা সফর শেষ করে ফিরতেই ফের মাথা চাড়া দিল সিন্ডিকেট রাজ। এবার খোদ পুলিশি নাকা চেকিংয়ের নাকের ডগায় দিনেদুপুরে ডাম্পার হাইজ্যাক ও চালককে অপহরণের অভিযোগ উঠল ধূপগুড়িতে। 'সিন্ডিকেট'-এর নামে দেড় লক্ষ টাকা তোলা না দেওয়ায় এই কাণ্ড ঘটানো হয়েছে বলে দাবি। এই ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। ইতিমধেই ধূপগুড়ি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ডাম্পারের মালিক।
ডাম্পার চুরি, চালক নিখোঁজ
শিলিগুড়ির বিন্নাগুড়ির বাসিন্দা সলিম হোসেনের একটি ১৬ চাকার ডাম্পার সমস্ত বৈধ কাগজপত্র নিয়ে আজ সকাল আনুমানিক সাড়ে আটটা নাগাদ ডাম্পারটি বীরপাড়া থেকে আরবিএম বোঝাই করে গন্তব্যের দিকে রওনা দিয়েছিল। ধূপগুড়ি স্টেশন সংলগ্ন তথা নাগা চেকিং পয়েন্টে ঢিল ছাড়া দূরত্ব সুকটা হাটি সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছাতেই বেশ কয়েকজন যুবক গাড়িটি আটকে দেয়। গাড়িতে অবৈধ আরবিএম রয়েছে এই অজুহাত তুলে চালকের ওপর চড়াও হয় তারা। গাড়ি ছাড়ার বদলে চালকের কাছে সরাসরি দেড় লক্ষ টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে চালককে প্রাণে মারার এবং গোটা ডাম্পারটি গায়েব করে দেওয়ার হুমকি দেয় অভিযুক্তরা। এরপর দুষ্কৃতীরা চালককে দিয়ে ডাম্পার মালিক সলিম হোসেনকে ফোন করায়। ফোনেও সলিম কে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়, দেড় লক্ষ টাকা না দিলে গাড়ি ও চালক কাউকেই রেহাই দেওয়া হবে না।
নিখোঁজ ডাম্পার ও চালক!
বেলা সাড়ে এগারোটার পর থেকে ওই মোবাইল নম্বরটি সুইচড অফ হয়ে যায়। তারপর থেকেই ডাম্পার এবং চালক উভয়েরই কোনো খোঁজ মিলছে না। ডাম্পার মালিকের স্পষ্ট অভিযোগ, টাকা না পেয়ে চালককে অপহরণ ও গাড়িটি হাইজ্যাক করেছে দুষ্কৃতীরা।
কাঠগড়ায় তৃণমূল নেতা
গোটা ঘটনায় ধূপগুড়ি পুরসভার ঘোষপাড়া সংলগ্ন ১১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা এলাকায় দাপুটে তৃণমূল কর্মী বলে পরিচিত টুকাই ঘোষের বিরুদ্ধে ধূপগুড়ি থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ডাম্পার মালিক। যদিও অভিযুক্ত এই বিষয়ে প্রতিক্রিয়া দেয়নি।
নতুন রাজ্য সরকার যেখানে দুর্নীতি ও সিন্ডিকেট রাজের বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতির কথা বলছে, সেখানে এই ঘটনা প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে বড়সড় প্রশ্ন তুলে দিয়েছে। সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, যে সুকটা হাটি এলাকায় ডাম্পারটি আটকানো হয়েছিল, সেখান থেকে ঢিল ছোড়া দূরত্বেই রয়েছে পুলিশের নাকা চেকিং পয়েন্ট। পুলিশের নাকের ডগায় কীভাবে এই ধরনের জুলুমবাজি ও অপহরণের ঘটনা ঘটল, তা নিয়ে ক্ষোভ উগরে দিয়েছেন স্থানীয়রা।লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর ধূপগুড়ি থানার পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। অপহৃত চালক ও ডাম্পারটির খোঁজে তল্লাশি চালানো হচ্ছে ধুপগুড়ি থানার পুলিশের তরফ।
তদন্ত শুরু
ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা পুলিশ সুপার সৌতম ব্যানার্জি জানিয়েছেন, পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে। গোটা বিষয় নিয়ে আইসির সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে বলা হয়েছে।


