গৃহবধূর সঙ্গে অবৈধ সম্পর্ক। আর সেই সুযোগেই তার নাবালিকা মেয়েকে নিয়মিত যৌন হেনস্থার অভিযোগ উঠল এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। এমন কী, বিষয়টি জানতে পেরেও ওই গৃহবধূ কোনও বাধা দেননি বলেই অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত স্কুলের শিক্ষিকাদের কাছে নির্যাতনের কথা বলার পরে পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা। তার বিরুদ্ধে পসকো আইনে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। 

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে মুর্শিদাবাদের বহরমপুর শহরে। অভিযোগ, সানিয়াত চৌধুরী নামে ওই যুব তৃণমূল নেতার সঙ্গে নির্যাতিতা ওই নাবালিকার মায়ের অবৈধ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। নিয়মিত ওই গৃহবধূর বাড়িতে যেত অভিযুক্ত সানিয়াত। আর সেই সুযোগেই ওই গৃহবধূর বারো বছরের মেয়ের সঙ্গে নিয়মিত অশালীন আচরণ করত সে। 

অভিযোগ, গোটা বিষয়টি জানত ওই নির্যাতিতার মা। সানিয়াতের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ না করে উল্টে সে নিজের মেয়েকেই বিষয়টি নিয়ে কাউকে না জানানোর জন্য চাপ দিতেন বলে অভিযোগ। শেষ পর্যন্ত স্কুলে গিয়ে সহপাঠী ও শিক্ষিকাদের বিষয়টি জানায় ওই নাবালিকা। তার পরেই স্কুলের তরফে গোটা বিষয়টি জেলা চাইল্ড লাইনে জানানো হয়। চাইল্ড লাইন থেকে অভিযোগ পেয়ে পুলিশ গত শুক্রবার ওই তৃণমুল নেতাকে গ্রেফতার করে। শনিবার তাকে আদালতে তোলা হলে জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। 

সরকার পক্ষের আইনজীবী আব্দুল কায়ুম বলেন, 'এই ঘটনায় নিগৃহীতার মাও অভিযুক্ত। তার বিরুদ্ধেও আইনি পদক্ষেপ শুরু হয়েছে।'

অভিযুক্ত সানিয়াত চৌধুরীকে অতীতে তৃণমুলের ছোট, বড় নেতাদের আশেপাশে ঘুরতে দেখা গেলেও, এই ঘটনার পরেই শাসক দলের নেতারা তাকে চিনতেই নারাজ। তৃণমূলের জেলা সভাপতি তথা মুর্শিদাবাদ লোকসভা কেন্দ্রের সাংসদ আবু তাহের খান  জানান, 'ওই নামে আমাদের দলে কোনও সদস্য নেই। আইন আইনের মতো চলবে, যে প্রকৃত দোষী সে উপযুক্ত সাজা পাবে।'