টোটো চালকদেরও এবার থেকে নিতে হবে ড্রাইভিং লাইসেন্স। সঙ্গে কোনও জাতীয় সড়ক ও রাজ্য সড়কে চালানো যাবে না টোটো। উত্তর ২৪ পরগণা জেলা প্রশাসন নতুন এই নিয়ম চালু করার প্রস্তুতি শুরু করেছে। আগামী মাসের শুরু থেকেই নতুন নিয়ম কার্যকর হবে। প্রশাসনের নতুন এই পরিকল্পনায় বাড়তে পারে বিড়ম্বনাও। কারণ মোটর যান আইনে টোটো চালকরা এখনও পর্যন্ত কোনও ড্রাইভিং লাইসেন্সই পাননি। 

বারাসত-সহ উত্তর ২৪ পরগণার সব শহরে আগামী পয়লা ডিসেম্বর থেকে জাতীয় সড়ক ও রাজ্য সড়কে টোটো চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষিত হচ্ছে। সেই সঙ্গে সব টোটো চালককে সরকারি ড্রাইভিং লাইসেন্স নিয়ে তবে গাড়ি চালাতে হবে। বারাসত পুরসভা সূত্রে জানা গিয়েছে, শহরে মোট সাত হাজার টোটো চলাচল করে। তার মধ্যে মাত্র মাত্র ২২০০ টোটো পুরসভায় নথিভুক্ত। কিন্তু এই ২২০০ টোটোর চালকদের কারও ড্রাইভিং লাইসেন্স নেই। ফলে সরকারি নির্দেশে পয়লা ডিসেম্বর থেকে লাইসেন্স ছাড়া টোটো চালানোর যে নিষেধাজ্ঞা জারি হচ্ছে, তা নিয়ে চরম বিশৃঙ্খলা তৈরি হতে পারে। সেই সঙ্গে পুরসভার নথিভুক্তি নেই যে পাঁচ হাজার টোটো রয়েছে, সেগুলির ভবিষ্যৎ কী, তা নিয়েও নানা প্রশ্ন থাকছে। 

বারাসতের উপর দিয়েই গিয়েছে ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়ক। সেই ব্যস্ত রাস্তার উপর দিয়ে অসংখ্য টোটো চলাচল করে। নতুন নিয়ম অনুযায়ী জাতীয় সড়কে আর টোটো চলতে পারবে না। ৩৪ নম্বর জাতীয় সড়কের উপর টোটো চলাচল বন্ধ হলে টোটোচালকদের উপার্জনে যেমন টান পড়বে, সেরকমই সাধারণ মানুষকেও বিকল্প যানবাহন খুঁজতে হবে। তবে জাতীয় সড়কে টোটোর চলাচল বন্ধ হলে যে দুর্ঘটনার আশঙ্কা কমবে, তা নিশ্চিত।

বারাসতের পুরপ্রধান সুনীল মুখোপাধ্যয় বলেন, 'শহরে বাইশশো নথিভুক্ত টোটো আছে। তার বাইরে যে সব টোটো আছে, আমরা তার দায়িত্ব নেব না। আর আগামী পয়লা ডিসেম্বর থেকে জাতীয় সড়ক ও রাজ্য সড়কে টোটো চলাচল করতে পারবে না। আমরা সেইভাবে প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিচ্ছি।'

সরকারি সিদ্ধান্তে টোটো চালকদের মধ্যে অবশ্য মিশ্র প্রতিক্রিয়া মিলল। চালকদের একাংশ পুরসভার এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। আবার অন্য অংশের বক্তব্য, সরকার এখনও টোটো চালকদের ড্রাইভিং লাইসেন্সই দেয়নি। আবেদন করলেও তা মিলছে না। সরকারি সিদ্ধান্তে সমস্যা বাড়বে। 

জেলার আঞ্চলিক পরিবহণ আধিকারিক অনন্তচন্দ্র সরকার বলেন, 'সরকারি নির্দেশ মতো টোটো চলাচলে নতুন কিছু নিয়ম চালু হচ্ছে। তার জন্য প্রশাসনিক প্রস্তুতিও শুরু হয়েছে।'