দলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই জোরদার হওয়ার প্রেক্ষাপটে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) গোষ্ঠী বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করতে চলেছে। এই প্রতিনিধিদল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করবে। তৃণমূলের পরিষদীয় দলের ১০ সদস্য ঋতব্রতে‌র নেতৃত্বে বুধবার বিকেলে দিল্লি রওনা হয়েছেন।

দলের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে লড়াই জোরদার হওয়ার প্রেক্ষাপটে বিরোধী দলনেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) গোষ্ঠী বৃহস্পতিবার নয়াদিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক করতে চলেছে। এই প্রতিনিধিদল মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের সঙ্গে দেখা করবে। তৃণমূলের পরিষদীয় দলের ১০ সদস্য ঋতব্রতে‌র নেতৃত্বে বুধবার বিকেলে দিল্লি রওনা হয়েছেন। দলের নেতৃত্ব, সংগঠন এবং নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী শিবিরের মধ্যে ক্রমবর্ধমান বিবাদের মাঝেই এই বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এবং ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী ভারতের নির্বাচন কমিশনের কাছে জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির পৃথক তালিকা জমা দেওয়ার পর রাজনৈতিক সংঘাত তীব্র আকার ধারণ করেছে।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

উভয় শিবিরই নিজেদের ‘আসল’ সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেস বলে দাবি করেছে, যার ফলে দলের নাম, সাংগঠনিক নিয়ন্ত্রণ এবং ‘জোড়া ঘাসফুল’ নির্বাচনী প্রতীক নিয়ে বিবাদের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। এই সপ্তাহের শুরুতে বিদ্রোহী বিধায়করা কলকাতার নিউ টাউনের একটি হোটেলে বিশেষ বৈঠক করেন এবং সেখানে ভয়েস ভোটের মাধ্যমে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে দলের চেয়ারপার্সনের পদ থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। বিধায়করা প্রাক্তন মন্ত্রী তথা হাওড়া সেন্ট্রালের বিধায়ক অরূপ রায়কে দলের নতুন প্রধান হিসেবে নির্বাচিত করেন। বিদ্রোহীরা যুক্তি দেন যে, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে গঠিত জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটির তিন বছরের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে, যার ফলে দলের সংবিধানের ২০ নম্বর অনুচ্ছেদ অনুযায়ী একটি সাংবিধানিক সংকট তৈরি হয়েছে।

মঙ্গলবার, বিদ্রোহী বিধায়করা পশ্চিমবঙ্গের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের কাছে একটি চিঠি জমা দিয়ে নিজেদের ‘অফিসিয়াল’ বা প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস হিসেবে স্বীকৃতি এবং দলের নির্বাচনী প্রতীকের নিয়ন্ত্রণ দাবি করেন। এর জবাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের শিবির নির্বাচন কমিশনের কাছে তাদের নিজস্ব তালিকা জমা দেয় এবং দাবি করে যে তারাই প্রকৃত তৃণমূল কংগ্রেস। ওই তালিকায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে চেয়ারপার্সন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে জাতীয় সাধারণ সম্পাদক ও লোকসভার দলনেতা, ডেরেক ও’ব্রায়েন ও দোলা সেনকে যুগ্ম সম্পাদক, শুভাশিস চক্রবর্তীকে কোষাধ্যক্ষ এবং শোভনদেব চট্টোপাধ্যায়কে বিধানসভায় দলনেতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

এই নতুন চ্যালেঞ্জ এমন এক সময়ে এল যখন এনডিএ-র দিকে ঝুঁকে পড়া লোকসভা সাংসদদের একটি বিদ্রোহী গোষ্ঠী এবং তিনজন রাজ্যসভা সাংসদের পদত্যাগের মতো পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হচ্ছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। বিদ্রোহীদের দাবি, দলের বিধায়কদের দুই-তৃতীয়াংশের বেশি এবং বেশ কয়েকজন নির্বাচিত কাউন্সিলরের সমর্থন তাদের পক্ষে রয়েছে। তারা দলের প্রতীক ও সাংগঠনিক সম্পদের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছে।

বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি দলের আর্থিক হিসাব-নিকাশ বা তহবিলের অডিট দাবি করেছে। বিদ্রোহীদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে, ৪৪০ কোটি টাকা জমা থাকা তৃণমূলের (টিএমসি) ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টগুলি ফ্রিজ করা হয়েছে। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সমর্থকরা দলের নির্বাচনী প্রতীক ও তহবিল—উভয়ের উপরই নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী। কৃষ্ণনগরের সাংসদ মহুয়া মৈত্র প্রতীকের উপর বিদ্রোহীদের দাবির বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তিনি বলেছেন, জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের আগেই তাদের উচিত প্রতীকটির অধিকার নিশ্চিত করা। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আজীবন চেয়ারপার্সন হিসেবে বহাল থাকবেন।