বিদ্রোহী নেতাদের বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছে তৃণমূল। তাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলকভাবে অন্যের পরিচয় ধারণ, জালিয়াতি এবং দলের নাম ও প্রতীক অননুমোদিতভাবে ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের (এআইটিসি) হয়ে সাংসদ দোলা সেন কালীঘাট এবং নিউটাউন থানায় ই অভিযোগ দায়ের করেন।
তৃণমূল কংগ্রেস (টিএমসি) একদল বিদ্রোহী নেতার বিরুদ্ধে পুলিশে অভিযোগ দায়ের করেছে। তাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলকভাবে অন্যের পরিচয় ধারণ (criminal impersonation), জালিয়াতি এবং দলের নাম ও প্রতীক অননুমোদিতভাবে ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সর্বভারতীয় তৃণমূল কংগ্রেসের (এআইটিসি) হয়ে সাংসদ দোলা সেন কালীঘাট এবং নিউটাউন থানায় ই অভিযোগ দায়ের করেন। তৃণমূলের তরফে ঋতব্রত ছাড়াও অরূপ রায়, জাভেদ খান, সন্দীপন সাহা, বিপ্লব মিত্রের নামোল্লেখ করে অভিযোগ জানানো হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে যে, বিদ্রোহী নেতারা অননুমোদিত বৈঠক করেছেন, মিথ্যা নথিপত্র ও ইলেকট্রনিক বার্তা ছড়িয়েছেন এবং নিজেদের দলের প্রতিনিধি হিসেবে মিথ্যাভাবে তুলে ধরেছেন।

টিএমসি-র একদল বিদ্রোহী বিধায়ক নিজেদের উদ্যোগে একটি 'জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি' গঠনের ঘোষণা দেওয়া এবং বিভিন্ন স্থানে বৈঠক শুরু করার পরই এই পদক্ষেপ নেওয়া হল। ২২ জুন তৃণমূল কংগ্রেসের বিদ্রোহী গোষ্ঠী নিজেদের উদ্যোগে একটি জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটি গঠনের ঘোষণা দেয় এবং অরূপ রায়কে এর সভাপতি হিসেবে মনোনীত করে। পাশাপাশি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে পরামর্শদাতার (মেন্টর) ভূমিকা গ্রহণের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এই পদক্ষেপের তীব্র প্রতিক্রিয়া জানান টিএমসি-র প্রবীণ নেতা কুণাল ঘোষ। তিনি বিদ্রোহী নেতাদের বিরুদ্ধে দলের নাম ও প্রতীক অপব্যবহার এবং মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বের প্রতি বিশ্বাসঘাতকতার অভিযোগ আনেন। কুণাল দাবি করেন যে, কিছু বিদ্রোহী নেতা চাপের মুখে কাজ করছেন এবং জোর দিয়ে বলেন যে, দলের আনুষ্ঠানিক নেতৃত্বকে দুর্বল করার যে নো চেষ্টাকে পশ্চিমবঙ্গের মানুষ প্রত্যাখ্যান করবে।
নতুন জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটিতে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাখা হয়নি
উল্লেখ্য যে, সদ্য ঘোষিত জাতীয় কার্যনির্বাহী কমিটিতে টিএমসি-র সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে রাখা হয়নি। এই পদক্ষেপটি দলের অভ্যন্তরীণ বিভাজন এবং আনুগত্য পরিবর্তনের বিষয়ে জল্পনা-কল্পনা আরও উসকে দিতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। বিদ্রোহী নেতা ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায় দাবি করেন যে, দলের গঠনতন্ত্র মেনেই এই কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং বিশেষ অধিবেশনের কার্যক্রম নির্বাচন কমিশনকে জানানো হবে। তিনি আরও জানান যে, সাংগঠনিক সম্প্রসারণের অংশ হিসেবে এই গোষ্ঠী শীঘ্রই জেলা কমিটি, রাজ্য ইউনিট এবং মুখপাত্রদের একটি প্যানেল গঠন করবে।
বিদ্রোহী গোষ্ঠীটিই যে "আসল" তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতিনিধিত্ব করছে—এমন দাবি করার পাশাপাশি ঋতব্রত দলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আপোষমূলক মনোভাবও দেখান। তিনি বলেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চাইলে এই গোষ্ঠীর প্রধান পরামর্শদাতা হিসেবে কাজ করতে পারেন। তিনি বলেন, "মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যদি প্রধান পরামর্শদাতা হতে চান, তবে তাঁকে সাদরে স্বাগত জানানো হবে।"


