রাজ্যের পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার জেরে তীব্র সমস্যায় পড়লেন মুর্শিদাবাদের জেলা পরিষদের সভাধিপতি মুশারফ হোসেন মধু। তৃণমূল সাংসদ আবু তাহের খানের দলীয় সভা এড়িয়ে খড়গ্রামে জেলা পরিষদের প্রয়াত কর্মাধ্যক্ষ স্মরণসভায় শুভেন্দু অধিকারীর উপস্থিতিতে সেখানে যোগ দিয়েছিলেন জেলা পরিষদের সভাধিপতি মোশারেফ হোসেন। তারপরই, তাঁর নিরাপত্তারক্ষী সরিয়ে ফেলা হয় বলে দাবি মোশারোফের।

বুধবার জেলা পরিষদের সভাধিপতি মোশারফ হোসেন মধুর বিস্ফোরক মন্তব্য করেনয তিনি বলেন, '' সময় সব কিছুর উতত্র দেবে। আমার নিরাপত্তা দেবে জনগণ। মানুষের সঙ্গে কাজ করি, নিরাপত্তা থাকল বা না থাকল সেটা নিয়ে পরোয়া করি না। নিরাপত্তারক্ষী ছাড়াই আগেও জনগণের কাজ করেছি। ভবিষ্যতেও কাজ করতে পারব। বাকিটার জন্য সকলে অপেক্ষা করুন।''

আরও পড়ুুন-বিজেপি-পুলিশ সংঘর্ষে রণক্ষেত্র খড়গপুর, ধস্তাধস্তি-খণ্ডযুদ্ধ, বিজেপির থানা ঘেরাও কর্মসূচি ঘিরে উত্তেজনা

জেলা পরিষদের সভাধিপতির নিরাপত্তারক্ষী সরিয়ে ফেলা নিয়ে মুর্শিদাবাদ পুলিশের উচ্চ পদস্থ আধিকারিক বলেন,'' বিষয়টি নিয়ে আমার কিছু জানা নেই। এর বেশি কিছু বলা সম্ভব নয়''। নিরাপত্তারক্ষী তুলে নেওয়ার নেপথ্য়ে তৃণমূল সাংসদ আবু তাহের খানের অঙ্গুলিহেলন কাজ করেছে বলে অভিযোগ। এ বিষয়ে আবু তাহের খান বলেন, '' আমার গোটা বিষয়টি জানা নেই, তবে শুনেছি জেলা সভাধিপতি নিজেই নিরাপত্তারক্ষী ছেড়ে দিতে চেয়েছিলেন। তাই এটা ঘটেছে''। 

আরও পড়ুন-'হবে না মাধ্যমিক-উচ্চমাধ্যমিকের টেস্ট পরীক্ষা', করোনা সংক্রমণের আশঙ্কায় ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

প্রসঙ্গত, মুর্শিদাবাদের জেলা পরিষদের সভাধিপতি মোশারফ হোসেন মধু পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত। দলীয় সাংসদ আবু তাহের খানের সভা এড়িয়ে শুভেন্দুর সভায় যোগ দেওয়া নিয়ে জেলা নেতৃত্বের মধ্যে টানাপোড়েন শুরু হয়। এই ঘটনার পর জেলা সভাপতি আবু তাহের খান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, '' যাঁরা দল ভাঙার চেষ্টা করছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হবে''। এই হুঁশিয়ারির পরই জেলা সভাধিপতির নিরাপত্তারক্ষী তুলে নেওয়া হয়। তার জেরে মুর্শিদাবাদ জেলা তৃণমূলে গোষ্ঠী দ্বন্দ্ব ফের প্রকাশ্যে এসেছে।

এই ঘটনার জেরে বহরমপুরের তৃণমূল সাংসদ বলেন, '' তৃণমূল অন্তর্দ্বন্দ্বের ক্যান্সারে আক্রান্ত। এই দল আগামী দিনে খান খান হয়ে যাওয়ার মুখে দাঁড়িয়েছে। পরের ঘর জ্বালালে নিজের ঘরও জ্বলবে, এটা চিরন্তন সত্য। মন্তব্য অধীর রঞ্জন চৌধুরীর। একুশের বিধানসভা ভোচের মুখে তৃণমূল থেকে অনেকটাই দূরে শুভেন্দু অধিকারী। নিজেকে সমাজসেবী হিসেবে তুলে ধরে দক্ষিণবঙ্গ জুড়ে 'আমার দাদার অনুগামী' সমর্থকদের ব্য়ানারে পোস্টার পড়েছে। এই অবস্থায় শুভেন্দু সঙ্গে তৃণমূলের জেলা পরিষদের সভাধিপতির ঘনিষ্ঠতা প্রকাশ্য়ে আনল তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। মত রাজনৈতিকমহলের।