মাঝরাতে ঘুমন্ত অবস্থায় মর্মান্তিক দুর্ঘটনা ঘটে গেল বাঁকুড়ায়। আচমকা হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ল একটি গোটা বাড়ি। বাড়ির লোকেরা বিপদ বুঝে বাইরে বেরিয়ে আসেন। পরে দুই ভাই বুঝতে পারে তাঁদের বাবা এখনও ঘরের মধ্যে আটকে রয়েছেন। এই অবস্থায় বাবাকে বাঁচাকে ঘরের মধ্যে ঢুকতেই গোটা বাড়িটাই ধসে যায়। বাবা জীবীত অবস্থায় উদ্ধার হলেও মৃত্যু হয় দুই ভাইয়ের।

আরও পড়ুন-প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় 'কাটমানি-স্বজনপোষণ', বিডিও অফিসে বিক্ষোভ গ্রামবাসীদের

মর্মান্তিক এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বাঁকুড়ার জয়পুর থানা এলাকার সুপুর গ্রামে। জানাগেছে, দীর্ঘ সত্তোর বছর ধরে নিজের বাড়িতে দুই ছেলে সহ পরিবারকে নিয়ে থাকতেন বছর পঁচাশির বৃদ্ধ অনিল বিশ্বাস। বৃহস্পতিবার মাঝরাতে ঘুমন্ত অবস্থায় বাড়ির একাংশ ভেঙে পড়ে। শব্দ শুনে সজাগ হয়ে যান ওই বৃদ্ধের দুই ছেলে সন্তোষ ও বিকাশ বিশ্বাস। বিপদ বুঝে গোটা পরিবারকে নিয়ে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে আসেন তাঁরা। বাইরে বেরোনোর পর বুঝতে পারেন তাঁদের বাবা অনীল বিশ্বাস এখনও ঘরের মধ্যে আটকে রয়েছেন। এই অবস্থায় পরিবারকে বাইরে রেখে বাবাকে বাঁচাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঘরের মধ্যে ঢুকে পড়েন দুই ভাই। আর তখনই বিপদ যেন ওত পেতে বসেছিল। বাবাকে বাঁচাতে ঘরের মধ্যে ঢোকার পরই হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে গোটা বাড়িটাই।

আরও পড়ুন-বিজেপিকে ছত্রভঙ্গ করতে কাঁদানে গ্যাস, অভিযান ঘিরে দিনভর উত্তপ্ত হাওড়া

মর্মান্তিক খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন প্রতিবেশী সহ গোটা গ্রাম। খবর দেওয়া হয় পুলিশে। পুলিশ ও গ্রামবাসীরা রূদ্ধশ্বাস লড়াইয়ে করে বাবা সহ দুই ছেলেকে উদ্ধারের চেষ্টা করে। ভেঙে পড়া বাড়ির ধ্বংস্তূপ সরিয়ে তিনজনকে উদ্ধার করা গেলেও দুই ছেলের মৃত্যু হয়। গুরুতর জখম অবস্থায় উদ্ধার হন পঁচাশি বছরের বৃদ্ধ বাবা। দুই ছেলে সন্তোষ ও বিকাশ বিশ্বাসের ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। গুরুতর আহত বাবা অনীল বিশ্বাসকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় বিষ্ণুপুর সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।