Uber শাটল পরিষেবা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কলকাতার অফিসযাত্রীরা সমস্যায় পড়েছিলেন। এর মধ্যেই নতুন বিকল্প হিসেবে CityFlo শহরে শাটল বাস চালু করেছে।নির্দিষ্ট সিট, অ্যাপ বুকিং ও সময়মতো পরিষেবার সুবিধা থাকায় অফিসযাত্রীদের স্বস্তি ফিরেছে। ভাড়াও তুলনামূলক।

কলকাতার অফিসপাড়ায় প্রতিদিনের লড়াইটা অনেকটাই নির্ভর করে যাতায়াত ব্যবস্থার উপর। আর সেই জায়গাতেই বড় ধাক্কা লেগেছিল যখন হঠাৎ করে Uber তাদের শাটল পরিষেবা বন্ধ করে দেয়। বহু কর্মজীবী মানুষ, বিশেষ করে আইটি সেক্টরের সঙ্গে যুক্ত যাত্রীরা, যাঁরা নিয়মিত এই পরিষেবার উপর নির্ভর করতেন, তাঁরা এক ধাক্কায় পড়ে যান চরম অসুবিধায়। ভিড়ভাট্টা বাস, ট্রেন কিংবা মেট্রোর ধাক্কাধাক্কির মধ্যে দিয়ে আবার পুরনো দিনের মতোই অফিসযাত্রা শুরু করতে বাধ্য হন অনেকেই।

ঠিক এই সময়েই শহরের পরিবহণ ব্যবস্থায় নতুন বিকল্প হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে CityFlo-র শাটল বাস পরিষেবা। দেশের অন্যান্য মেট্রো শহরে সফল হওয়ার পর এবার কলকাতায় তাদের পদক্ষেপ, যা ইতিমধ্যেই অফিসযাত্রীদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করেছে।

এই পরিষেবার মূল আকর্ষণ হল নির্দিষ্ট সময় ও নির্দিষ্ট রুটে তুলনামূলক আরামদায়ক যাত্রার অভিজ্ঞতা। উত্তর ২৪ পরগনার বারাসত, বারাকপুর বা নৈহাটির মতো দূরবর্তী এলাকা থেকে সরাসরি Sector V কিংবা নিউ টাউনের আইটি হাব পর্যন্ত বাস চালু হওয়ায় যাত্রীরা একবার উঠেই দীর্ঘ পথ অতিক্রম করতে পারছেন, মাঝপথে যানবদলের ঝামেলা ছাড়াই। একইভাবে দক্ষিণ কলকাতার জোকা, ঠাকুরপুকুর, রানিকুঠি, বিজয়গড় কিংবা বজবজ থেকেও নিউ টাউন ও হাতিশালার মতো কর্মক্ষেত্রের সঙ্গে সংযোগ তৈরি হয়েছে।

শুধু রুট নয়, যাত্রীদের সুবিধার কথা মাথায় রেখে পরিষেবায় রাখা হয়েছে অ্যাপ-ভিত্তিক বুকিং, নির্দিষ্ট সিট এবং সময় মেনে চলার প্রতিশ্রুতি—যা দৈনন্দিন যাত্রাকে অনেকটাই পূর্বানুমেয় করে তোলে। ফলে দাঁড়িয়ে যাত্রা করার ঝামেলা নেই, আর অফিস টাইমে সময়মতো পৌঁছনোর নিশ্চয়তাও অনেকটাই বাড়ছে। অফিস টাইমে সময় বাঁচানো এবং আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য এই ধরনের পরিষেবা দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে বলেই মনে করছেন পরিবহণ বিশেষজ্ঞরা।

ভাড়ার ক্ষেত্রেও রয়েছে একাধিক বিকল্প। সাধারণভাবে বারাসত থেকে সেক্টর ভি পর্যন্ত যাত্রার খরচ প্রায় ২০০ টাকার আশেপাশে হলেও নতুন যাত্রীদের জন্য বিশেষ অফারে মাত্র ৪৯ টাকায় প্রথম যাত্রার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। নিয়মিত যাতায়াতকারীদের জন্য মাল্টি-ডে প্যাক বা সাবস্ক্রিপশন প্ল্যানও চালু হয়েছে, যেখানে কয়েকদিনের একসঙ্গে বুকিং করলে মোট খরচ তুলনামূলকভাবে কমে যায়।

এই শাটল বাসে যাত্রা করতে হলে CityFlo অ্যাপ ডাউনলোড করে রুট, সময় ও সিট বেছে নিয়ে আগাম বুকিং করতে হবে।

সব মিলিয়ে, শহরের ক্রমবর্ধমান যাত্রীচাপের মধ্যে এই নতুন শাটল পরিষেবা একদিকে যেমন বিকল্প পরিবহণের রাস্তা খুলে দিচ্ছে, তেমনই কর্মজীবী মানুষের দৈনন্দিন যাত্রাকে কিছুটা হলেও স্বস্তিদায়ক করে তুলছে। ভবিষ্যতে আরও রুট ও বাস যুক্ত হলে কলকাতার অফিসযাত্রার ছবিটাই বদলে যেতে পারে।