বুদ্ধদেব পাত্র, সংবাদদাতা- প্রতিদিনই চাঙড় খসে পড়ছে। চাঙড়ের আঘাতে আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন। বরাতজোরে প্রাণে বেঁচে গিয়েছেন কেউ কেউ। জলের ট্যাঙ্ক ভেঙে পড়বে না তো? আতঙ্ক গ্রাস করেছে পুরুলিয়ার ঝালদা শহরের বাসিন্দাদের।

এ রাজ্যে তখন ক্ষমতায় বামেরা। ১৯৮৭ সালে পুরুলিয়ার ঝালদা শহরের এক নম্বর ওয়ার্ডে পানীয় জলের একটি ট্যাঙ্ক তৈরি করেছিল জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তর। ট্যাঙ্কটির জল ধারণ ক্ষমতা ৬ লক্ষ ৮১হাজার লিটার। কিন্তু মাঝের তিন দশকে ট্যাঙ্কটির আর সংস্কার করা হয়নি বলে অভিযোগ। স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ট্যাঙ্কের দেওয়াল ও পিলারে ফাটল ধরেছে। প্রতিদিন খসে পড়ছে চাঙড়। বেশ কয়েকবার ঘটছে দুর্ঘটনাও। শুধু তাই নয়, শহরের যে এলাকায় ট্যাঙ্কটি রয়েছে, সেই এলাকাটি যথেষ্ট জনবহুল। বস্তত, ট্যাঙ্কের পাশে প্রাথমিক স্কুল ও বস্তিও আছে। ফলে রীতিমতো আতঙ্কে ভুগছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। অবিলম্বে ট্যাঙ্কটি সংস্কার করার জন্য মহকুমাশাসক, এমনকী জেলাশাসকের কাছেও তাঁরা আবেদন করেছেন বলে জানা গিয়েছে। কিন্তু ট্যাঙ্কের গায়ে 'বিপজ্জনক' লেখা বোর্ড ঝুলিয়ে প্রশাসন দায় সেরেছে বলে অভিযোগ। ক্ষোভ বাড়ছে পুরুলিয়ার ঝালদায়।

আরও পড়ুন: সারেঙ্গায় কেন ভেঙে পড়ল ট্যাঙ্ক, দেখতে গেলেন বিজেপির সাংসদ

শহরের প্রাণকেন্দ্রে জলের ট্যাঙ্কের বেহাল দশার কথা স্বীকার করে নিয়েছেন ঝালদা পুরসভার চেয়ারম্যান প্রদীপ কর্মকারও। তাঁর বক্তব্য়, 'মহকুমাশাসক, জেলাশাসক ও জনস্বাস্থ্য দপ্তরে লিখিতভাবে জানিয়েছি। বেশ কয়েকবার সতর্কও করেছি। অবিলম্বে ব্যবস্থা না নিলে যেকোনও সময়ে দুর্ঘটনা ঘটবে। তখন আমাদেরই প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে।'

'

মাত্র দুই বছর আগে তৈরি করা হয়েছিল। বুধবার বাঁকুড়ার সারেঙ্গায় হুড়মুড়িয়ে ভেঙে পড়ে জনস্বাস্থ্য ও কারিগরি দপ্তরের জলের ট্যাঙ্ক। ঘটনার রীতিমতো শোরগোল পড়ে গিয়েছে রাজ্যে। নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে ট্যাঙ্ক তৈরির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়েছে বিরোধীরাও। সেই ঘটনা রেশ কাটতে কাটতেই এবার ট্যাঙ্ক ভেঙে পড়ায় আতঙ্ক ছড়াল পুরুলিয়াতেও।