West Bengal Assembly Election 2026: উত্তরবঙ্গে ভোটপ্রচারে গিয়ে আবারও এসআইআর নিয়ে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee)। নকশালবাড়ির সভা থেকে তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। সভা থেকে তিনি বড় ঘোষণাও করেন। যাদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের জন্য ক্যাম্প করা হবে বলে জানান তিনি। বিনা পয়সায় আইনজীবী দেওয়া হবে।

West Bengal Assembly Election 2026: উত্তরবঙ্গে ভোটপ্রচারে গিয়ে আবারও এসআইআর নিয়ে সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee)। নকশালবাড়ির সভা থেকে তিনি বিজেপির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। সভা থেকে তিনি বড় ঘোষণাও করেন। যাদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের জন্য ক্যাম্প করা হবে বলে জানান তিনি। এছাড়াও তাঁদের বিনা পয়সায় আইনজীবী দেওয়া হবে। যাদের নাম বাদ গিয়েছে তাঁদের শুধু দরখাস্ত করতে হবে। মুখ্য়মন্ত্রী বলেন, "এসআইআর-এর বদলা একটা করে ভোট। আমি কেন্দ্রীয় বাহিনীকে সম্মান করি। কিন্তু আমি দেখেছি, বাঁকুড়ায় ওরা বিজেপির পতাকা নিয়ে যাচ্ছিল। কোনও দিন যা হয়নি, তা হচ্ছে। মা-বোনেরা ভোটের দিন সকাল থেকে বুথ পাহারা দিন। পাঁচ বছরের জন্য যদি শান্তি চান, এক দিনের জন্য পাহারা চাই। যাতে দিল্লির লোকজন এসে ছাপ্পা না দিতে পারে। ভয় দেখালে ঘরে যা আছে তা নিয়ে বেরোবেন। আপনারা তো রান্নাবান্না করেন, আমাকে আর বেশি বলতে হবে না।"

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বুধবার দাবি করেছেন যে, 'SIR' প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে যে ২৭ লক্ষ ভোটারের ভোটাধিকারের বৈধতা যাচাই করা হচ্ছিল, তাঁদের মধ্য থেকে প্রথম অতিরিক্ত তালিকায় ৮ লক্ষ ভোটারের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে। দার্জিলিং জেলার শিলিগুড়ি মহকুমার নকশালবাড়িতে এক নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দিতে গিয়ে তিনি বিজেপির সমালোচনা করেন। রাতে নির্বাচন কমিশনের ওয়েবসাইটে গোলমাল নিয়েও সুর চড়াান মমতা। তিনি জানান যে তাঁর নামও সন্দেহের তালিকায় চলে গিয়েছিল। মমতা বলেন, "হঠাৎ করে কমিশনের ওয়েবসাইট থেকে সকলের নাম মুছে গেল! এখন বলছে হ্যাকিং হয়েছে। হ্যাকিং করেছ না বজ্জাতি করছ, মানুষকে জানাও। আমি রাস্তা থেকে সুপ্রিম কোর্ট লড়াই করেছি। লড়ে যাব। ছাড়ব না। এখনও অতিরিক্ত তালিকা টাঙায়নি। যাঁদের নাম বাদ গিয়েছে, তাঁদের জন্য আমরা ক্যাম্প করব। বিনা পয়সায় আইনজীবী দেব। আপনাদের শুধু দরখাস্ত করতে হবে। শোনা যাচ্ছে আট লক্ষের নাম বাদ গেছে। তালিকা কোথায়?"

ত্রুটিপূর্ণ পরিকল্পনায় SIR প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে দুর্ভোগে ফেলার জন্য তিনি বিজেপিকে দায়ী করেন। মমতা আরও দাবি জানান যে, অনলাইনে প্রকাশিত এই অতিরিক্ত তালিকার মুদ্রিত কপি (physical copies) অবিলম্বে সহজলভ্য করা হোক, যাতে তা যাচাই করা সম্ভব হয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, "আমাকে জানানো হয়েছে যে, যাচাই-বাছাইয়ের আওতায় থাকা ২৭ লক্ষ ভোটারের মধ্যে ৮ লক্ষ ভোটারের নাম প্রথম অতিরিক্ত তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু সেই তালিকাটি কোথায়? কেন সরকারি অফিসগুলোতে এখনও পর্যন্ত সেই তালিকার মুদ্রিত কপি টাঙিয়ে দেওয়া হয়নি?"

মুখ্যমন্ত্রী এটাও জানিয়েছেন যে যতদিন তিনি ক্ষমতায় থাকবেন, ততদিন রাজ্যে জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (NRC) বা ডিটেনশন ক্যাম্প (আটক কেন্দ্র) চালু করা হবে না। পিটিআই-এর একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, নকশালবাড়িতে একটি নির্বাচনী জনসভায় ভাষণ দেওয়ার সময় বন্দ্যোপাধ্যায় জনগণকে আশ্বস্ত করেন যে, তাঁর সরকার পশ্চিমবঙ্গে এই ধরনের কোনও পদক্ষেপ চালু করার অনুমতি দেবে না।