WB Dengue Update: উৎসবের মরশুমে রাজ্যে ফের চোখ রাঙাচ্ছে ডেঙ্গু। অক্টোবরের শুরু থেকেই চড়চড় করে বাড়ছে মশাবাহিত এই রোগের সংক্রমণ। পরিস্থিতি কতটা উদ্বেগজনক? কী সাবধানতা অবলম্বন করবেন? নতুন টিকা আসলে কী কমবে ডেঙ্গুর প্রকোপ? স্বাস্থ্য দফতরই বা কতটা সচেষ্ট? কী বলছেন চিকিৎসক মহল। বিশদে জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন।।

WB Dengue Update: পুজোর মরশুম কাটতে না কাটতেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে ডেঙ্গু। বর্ষার বিদায় ঘণ্টা বাজলেও রাজ্যে লাফিয়ে বাড়ছে আক্রান্তের সংখ্যা। স্বাস্থ্য দফতরের সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, উৎসবের মধ্যেও চলতি মাসের প্রথম ২৪ দিনেই রাজ্যে নতুন করে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৭৫১ জন। এই মুহুর্তে রাজ্যে মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা- ১২ হাজার ৮৮৯ জন। ২৪ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যে মৃত্যু হয়েছে ডেঙ্গু সংক্রমণে ১৫ জনের।

২৪ অক্টোবর পর্যন্ত চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২৯০ জন। এবং সবচেয়ে বেশি সংক্রমিত হয়েছে ৬ জেলা। মুর্শিদাবাদ, কলকাতা, উত্তর ২৪ পরগনা, হাওড়া, দক্ষিণ ২৪ পরগনা ও মালদা সবচেয়ে বেশি সংক্রমিত।

রাজ্যে ডেঙ্গু বাড়বাড়ন্ত নিয়ে কী বলছে প্রশাসন?

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে কোথায় গাফিলতি বা খামতি ছিল, তা খতিয়ে দেখতে সোমবার স্বাস্থ্য ভবনে বসে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। উপস্থিত ছিলেন সরকারি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রতিনিধি, একাধিক দফতরের সচিব, জেলাশাসক, মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিক এবং কলকাতা-সহ সমস্ত পুরসভার কমিশনার ও আধিকারিকরা। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, বারবার সতর্কবার্তা সত্ত্বেও পরিস্থিতি কেন বারবার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে? কী করেই বা মোকাবিলা করা সম্ভব ডেঙ্গুর সঙ্গে? 'কিউ ডেঙ্গা' ভ্যাকসিনের দ্বিতীয় ট্রায়াল ইতিমধ্যেই হয়ে গিয়েছে বলে জানাচ্ছে আইসিএমআর। এই টিকার কার্যকারিতা নিয়ে এখনই নিশ্চিত হতে পারছে না চিকিৎসকমহল।

সরকার বদলের পর থেকেই দফায় দফায় সরকারি হাসপাতাল পরিদর্শন ও বৈঠক করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী শারদ্বত মুখোপাধ্যায়। ডেঙ্গুর স্পাইক সবে শুরু। অক্টোবরের শেষ সপ্তাহ এবং নভেম্বরের প্রথম দু’সপ্তাহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সরকারের সদিচ্ছা ও আগাম প্রস্তুতি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে চিকিৎসক মহল। স্বাস্থ্যমন্ত্রী তথা রাজ্য সরকারের তীব্র সমালোচনা করে চিকিৎসক অরিন্দম বিশ্বাসের অভিযোগ, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সামগ্রিক অব্যবস্থা এবং নজরদারির অভাবেই এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।

ডেঙ্গুর কামড়ে যখন ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে আক্রান্ত ও মৃতের তালিকা, তখন শুধু কাগজ-কলমে বৈঠক বা প্রশাসনের তরফ থেকে সজাগ থাকার সতর্কবার্তায় কাজ হবে কি না, তা নিয়েই এখন সবথেকে বড় প্রশ্ন উঠছে সাধারণ মানুষের মনে। উৎসবের রেশ কাটতে না কাটতেই মশাবাহিত এই রোগের বাড়বাড়ন্ত রোধে স্বাস্থ্য দফতরের ভূমিকা শেষ পর্যন্ত কতটা কার্যকর হয়, এখন সেটাই দেখার।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।