বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election 2026) পানিহাটি কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হতে পারেন আরজিকরের নিহত চিকিৎসক অভয়ার মা (Abhaya Mother)। বিজেপির টিকিটে তিনি ভোটে লড়তে পারেন। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কথা নিজেই জানিয়েছেন অভয়ার মা।

বিধানসভা নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election 2026) পানিহাটি কেন্দ্র থেকে প্রার্থী হতে পারেন আরজিকরের নিহত চিকিৎসক অভয়ার মা (Abhaya Mother)। বিজেপির টিকিটে তিনি ভোটে লড়তে পারেন। বিজেপিতে যোগ দেওয়ার কথা নিজেই জানিয়েছেন অভয়ার মা। আজ সাংবাদিকদের তিনি বলেন, "আমি বিজেপির প্রার্থী হয়ে দাঁড়াতে চাই। প্রথম থেকেই আমাদের বলা হচ্ছিল, কিন্তু আমি রাজি ছিলাম না। কিন্তু আমি দেখলাম, রাজ্যে নারীদের নিরাপত্তা, সুরক্ষা নেই এবং রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি। কোনও মানুষই ভাল নেই। তাই তৃণমূলের মূলটাকেই উপড়ে ফেলার জন্য আমি বিজেপিতে যোগ দিয়েছি।"

এদিকে, আজই বিজেপির দ্বিতীয় দফার প্রার্থী তালিকা ঘোষণা করা হতে পারে। সেই তালিকায় নাম থাকতে অভয়ার মায়ের। আরজি করের নিহত চিকিৎসক অভয়ার মা, বাবা তাঁদের মেয়ের প্রতি অপরাধের বিচারের দাবিতে দীর্ঘদিন ধরে লড়াই চালাচ্ছেন। কিছুদিন আগেই ব্যারাকপুরের প্রাক্তন সাংসদ তথা বিজেপি নেতা অর্জুন সিং তাঁদের বাড়িতে এসেছিলেন। পরিবারের সঙ্গে কথা বলেছিলেন। তবে সেই সময় অভয়ার মা প্রার্থী হবেন কি না সে সম্পর্কে কিছু জানা যায়নি। অর্জুন সিং জানিয়েছিলেন যে তিনি অভয়ার পরিবারের খোঁজ নেওয়ার জন্যই এসেছিলেন। অভয়ার মা-বাবার সঙ্গে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেছিলেন অর্জুন।

অভয়ার বাড়ি যে জায়গায়, তা পানিহাটি বিধানসভার অন্তর্গত। সেখানে তৃণমূলের প্রার্থী হয়েছেন নির্মল ঘোষের পুত্র তীর্থঙ্কর ঘোষ। বামেদের পক্ষ থেকে এই এলাকায় প্রার্থী হয়েছেন সিপিএম নেতা কলতান দাসগুপ্ত। ২০২১ সালে বিজেপির সন্ময় বন্দ্যোপাধ্যায়কে প্রায় ২৫ হাজার ভোটে হারিয়ে নির্মল ঘোষ জিতেছিলেন। আর এবার তৃণমূল টিকিট দিয়েছে তাঁর ছেলে তীর্থঙ্করকে। এর আগে ১৯৯৬ সালে এই আসন থেকে কংগ্রেসের টিকিটে বিধায়ক হয়েছিলেন নির্মল ঘোষ। পরে ২০০১ সালে তিনি তৃণমূলের টিকিটে জিতেছিলেন এই আসন থেকেই। ২০০৬ সালে তিনি হেরে গিয়েছিলেন। আর এবার নির্মলের ছেলের বিরুদ্ধে অভয়ার মাকে প্রার্থী করতে পারে বিজেপি।

অভয়ার বাবা এদিন বামেদের সমালোচনা করেন। বিচার পাওয়ার রাস্তায় বামেরা বাধা দিয়েছে বলেই তিনি দাবি করেন। অভয়ার বাবা বলেন, “প্রস্তাব অনেকদিন আগেই এসেছিল। তবে মানসিক প্রস্তুতি নিতে সময় লেগেছে। আমরা বারবার বলেছিলাম আমার মেয়ের মৃত্যুর উপর দাঁড়িয়ে রাজনীতি করতে দেব না। সেটাই করল। বামপন্থী দলগুলি আন্দোলন করেছে, বিচার যাতে না পাই সেই কাজটা করেছে। বিচার পাওয়ার কাজ তারা করেনি। বিচার যাতে না পাই, তাই বাধা দিয়ে যাচ্ছে।”