পানিহাটিতে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে নামলেন আরজি কর কাণ্ডে নির্যাতিতা চিকিৎসকের মা রত্না দেবনাথ। বুধবার বিকেলে তাঁকেই পানিহাটির প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে বিজেপি। আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে আট থেকে আশি প্রায় সকলেই আন্দোলনে শামিল হন। প্রতিবাদে পথে নামেন সিপিএম নেতা কলতান দাশগুপ্তও। তিনি এবার পানিহাটির সিপিএম প্রার্থী।

পানিহাটিতে বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে নামলেন আরজি কর কাণ্ডে নির্যাতিতা চিকিৎসকের মা রত্না দেবনাথ। বুধবার বিকেলে তাঁকেই পানিহাটির প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করেছে বিজেপি। আরজি কর কাণ্ডের প্রতিবাদে আট থেকে আশি প্রায় সকলেই আন্দোলনে শামিল হন। প্রতিবাদে পথে নামেন সিপিএম নেতা কলতান দাশগুপ্তও। তিনি এবার পানিহাটির সিপিএম প্রার্থী। এই কেন্দ্রে আগেই কলতান দাশগুপ্তকে প্রার্থী করেছে বামফ্রন্ট। এই কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী বিদায়ী বিধায়ক নির্মল ঘোষের পুত্র তীর্থঙ্কর ঘোষ। প্রার্থী ঘোষণা পর্বের পর পানিহাটিতে ত্রিমুখী লড়াইয়ের ছবি স্পষ্ট। তবে শুরুর এই সংযত অবস্থানই ইঙ্গিত দিচ্ছে – এ লড়াই শুধু রাজনৈতিক নয়, আবেগের সমীকরণও বড় ফ্যাক্টর হয়ে উঠতে পারে।

বৃহস্পতিবার আবারও মুখ্য়মন্ত্রী ও রাজ্য সরকারকে নিশানা করেন রত্নাদেবী। তিনি বলেন, "পশ্চিমবঙ্গ দুর্নীতিতে ডুবে আছেন। মহিলাদের কোনও সুরক্ষা নেই, সম্মান নেই। কোনও কিছু ঘটলেই বলা হয়, রাতে মেয়েরা বাইরে বেরোবে না, রাতে ডিউটি দেবে না। এসব কথা যিনি বলেন তিনিই আমাদের মুখ্যমন্ত্রী, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও পুলিশ মন্ত্রী। আমি বলব ভয় না পেয়ে সবাই নিজেদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন হোন। অধিকার ছিনিয়ে নেওয়ার লড়াই এটা। সবাই আমার আন্দোলনে ছিলেন, তাঁরা আমার পাশে থাকবেন। তাতে তৃণমূলকে মূল সমেত উপড়ে ফেলতে পারব।"

পানিহাটি কেন্দ্রে বামেদের হয়ে লড়ছেন সিপিএমের কলতান দাশগুপ্ত। রত্না দেবনাথের নাম বিজেপি প্রার্থী হিসেবে ঘোষণার পরে কলতান দাশগুপ্ত বলেন, "আমার কোনও প্রতিক্রিয়া নেই। যে কেউ রাজনীতি করতে পারে।" কলতান দাশগুপ্তকে নিয়ে রত্না দেবনাথ বলেন, "কলতান আমার ছেলের মতো, ও আন্দোলন করেছে। ওর বিরুদ্ধে আমি কিছু বলব না।" এর আগে যদিও কলতান দাশগুপ্তকে নিশানা করেছিলেন তিনি। স্পষ্ট বার্তা দেন, আন্দোলনের আবেগকে ভোটের মঞ্চে তোলা হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। নির্বাচনী লড়াইয়ে নামার পর অভয়ার বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলেন কলতান। গোটা বিষয়টাই ভালোভাবে নেননি অভয়ার অভিভাবকরা। তাঁরা বলেন, “আমার মেয়ের নামে আন্দোলন করেছেন বলে তাঁর নাম ভাঙিয়ে ভোটে দাঁড়াবেন, এটা আমরা সহ্য করতে পারব না। নীতি-নৈতিকতা বিসর্জন দিয়ে যদি ভোটে জিততেই হয়, তাহলে কিছু বলার নেই। আন্দোলন করেছে বলে আমার মেয়ের নাম ব্যবহার করতেই হবে, এমন কোনও কথা নেই। ভোটে জেতার অনেক বিষয় আছে, তাহলে কেন শুধু আমার মেয়ের নামটাই ব্যবহার করা হবে?”