২০১৬ সালের ভোটে রাজ্যের সমস্ত বিধানসভা আসনকে ছাড়িয়ে সবার চোখ চলে গিয়েছিল নন্দ্রীগ্রামে। কারণ, ওই আসনে লড়াই হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে। শেষ হাসিটা হেসেছিলেন শুভেন্দুই।

২০১৬ সালের ভোটে রাজ্যের সমস্ত বিধানসভা আসনকে ছাড়িয়ে সবার চোখ চলে গিয়েছিল নন্দ্রীগ্রামে। কারণ, ওই আসনে লড়াই হয়েছিল মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে। শেষ হাসিটা হেসেছিলেন শুভেন্দুই। প্রায় ২০০০ ভোটে তিনি মমতাকে হারিয়ে দেন। পরে ভবানীপুর আসন থেকে জিতে আসেন মুখ্যমন্ত্রী। গতবারের মতো এবারও এই আসন নিয়ে চড়ছে রাজনীতির পারদ। শুরু হয়েছে নানা জল্পনা কল্পনা। অনেকেই মনে করছেন, এবার নন্দীগ্রামে আর দাঁড়াবেন না মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বদলে দাঁড়াতে পারেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

প্রেস্টিজ ফাইট

সিঙ্গুরের মতো তৃণমূলের কাছে নন্দীগ্রাম আসন ইজ্জতের সওয়াল। ওই আসনে খোদ মুখ্যমন্ত্রীর হার কোনওভাবেই মেনে নিতে পারেনি তৃণমূলের সর্বোচ্চ নেতৃত্ব। তাই রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এবার মাঠে নামতে পারেন খোদ অভিষেকই। তার ইঙ্গিতও পাওয়া গিয়েছে। কারণ, তিনি নন্দীগ্রামে সেবাশ্রয় করেছেন। নিজের সাংসদ কেন্দ্র ডায়মন্ডহারের গণ্ডি ছাড়িয়ে নন্দীগ্রামে সেবাশ্রয় করার মধ্য়ে রাজনৈতিক সলতে পাকানো শুরু হয়েছে। শুধু প্রার্থী হয়ে সেই সলতেতে আগুন ধরাতে পারেন মুখ্য়মন্ত্রীর ভাইপো।

বিজেপিও তৈরি

বিজেপিও মনে করছে নন্দীগ্রামে এবার অভিষেককেই লড়াইয়ের ময়দানে নামাতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারও এর আগে এই দাবি করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, নন্দীগ্রাম থেকেই ভোটে দাঁড়াবেন অভিষেক। সেই কারণেই পছন্দের পুলিশ অফিসারদের নন্দীগ্রামেই বদলি করা হয়েছে। বালুরঘাটের বিজেপি সাংসদ বলেছিলেন, "আমার কাছে খবর, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবার নন্দীগ্রাম আসনে দাঁড়াবেন। সেই জন্য নিজের পোঁ ধরা অফিসারদের ওই জেলাতে ট্রান্সফার করা হচ্ছে। ওঁর উপমুখ্যমন্ত্রী হওয়ার খুব শখ। সেই উপমুখ্যমন্ত্রী হওয়ার জন্য উনি নন্দীগ্রাম বিধানসভা আসনে দাঁড়াবেন বলে খবর আছে।"

নন্দীগ্রামের স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বও মনে করছে এবার এই আসনে লড়াই হতে পারে অভিষেক বনাম শুভেন্দু। যার জন্য পাল্টা প্রস্তুতিও নেওয়া হয়েছে। নন্দীগ্রামে সেবাশ্রয় স্বাস্থ্য শিবিরে সাতদিনে প্রায় ১৮ হাজারের বেশি মানুষ গিয়েছেন বলে খবর। সকলকে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে এক্স হ্যান্ডলে পোস্টও করেন অভিষেক। নন্দীগ্রামের মতো হট-সিটে অভিষেক তথা তৃণমূলের সেবাশ্রয় ক্যাম্প কি ভোট বাক্সে প্রভাব ফেলতে পারে?

কী হতে পারে নন্দীগ্রামে?

তমলুক সাংগঠনিক জেলা বিজেপির সহ-সভাপতি প্রলয় পাল অবশ্য জানিয়েছেন, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে তাঁরা গুরুত্ব দিচ্ছেন না। নন্দীগ্রামে দাঁড়াতে পিসি মমতার মতো তাঁকে হারাবেন। প্রলয় বলেন, "অভিষেক বন্দ্যোপাধ্য়ায় প্রার্থী হলে তাঁর পিসির মতোই হাল হবে। ১৯৫৬ ভোটে হেরে তিনি কালীঘাট ফিরে গিয়েছিলে। অভিষেক দাঁড়ালে হারের ব্যবধান আরও বাড়বে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে মমতার চেয়ে দশগুণ ভোটে হারাব।'

২০১৬ সালে মুখ্যমন্ত্রী ১৯৫৬ ভোটে নন্দীগ্রামে হারেন। সেই হিসেবে অভিষেককে কমবেশি ২০ হাজার ভোটে হারাবেন বলে দাবি প্রলয় পালেন। কিন্তু, হারের ব্যবধান কেন মাত্র হাজারের ঘরে? এই প্রশ্নের উত্তরে প্রলয় অবশ্য মুসলিম ভোটকে দায়ী করেছেন। তিনি বলেন, "বিভিন্ন জায়গার মাটি বিভিন্ন রকম। খেজুরির মাটি একরকম, নন্দীগ্রামের মাটি অন্যরকম। সব বিধানসভার মাটি সমান নয়। নন্দীগ্রামে ৬০-৭০ হাজার ভোট তৃণমূল একা পায়। আমাদের হিন্দু এলাকা থেকে ভোট পেয়ে জিততে হয়। মুসলিম ভোট আমরা পাই না। শুভেন্দুবাবু গতবারে মাত্র ৪০০ মুসলিম ভোট পেয়েছিলেন। সবাই জানে মুসলিমরা তৃণমূলকে ভোট দেবে। সেটাকে কভার করে এগোতে হবে।"

তাহলে লডাই কি কঠিন?

জবাবে প্রলয় বলেন, "এখানে লড়াইটা কঠিন নয়। ব্যবধান আগের থেকে বাড়বে। অনেক বিধানসভায় তৃণমূল লক্ষ লক্ষ ভোটে জেতে। সেটা এখানে হয় না। কারণ মুসলিম ভোট গোটাটা তৃণমূল পায়। নন্দীগ্রামে যে দলই জিতুক না কেন, লক্ষ লক্ষ ভোটে জিততে পারবে না।'