পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের এক্সিট পোল ইঙ্গিত দিচ্ছে, প্রথমবার ক্ষমতায় আসতে পারে ভারতীয় জনতা পার্টি। বিভিন্ন সংস্থার সমীক্ষা অনুযায়ী, বিজেপি স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে। তবে চূড়ান্ত ফলের জন্য অপেক্ষা করতে হবে।

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের শেষ দফার ভোট শেষ হতেই এক্সিট পোলগুলো সামনে এসেছে, যা রাজ্যের রাজনীতিতে বড়সড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বিভিন্ন বেসরকারি সমীক্ষা সংস্থা প্রায় এক সুরেই বলছে, এবার প্রথমবার বিজেপি ক্ষমতায় আসার সম্ভাবনা প্রবল। রাজনৈতিক মহল মনে করছে, এর ফলে দীর্ঘদিন ধরে ক্ষমতায় থাকা তৃণমূল কংগ্রেস সরকারের সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে।

বেশিরভাগ এক্সিট পোলের গড় বলছে, বিজেপি প্রায় ১৬৪টি আসন পেতে পারে। পশ্চিমবঙ্গে সরকার গড়ার জন্য ম্যাজিক ফিগার ১৪৮। সেই হিসেবে এটা স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেস ১২০-এর বেশি আসন পেলেও ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য তা যথেষ্ট হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।

Praja, IANS-Matrize, Poll Diary-র মতো সংস্থাগুলোর সমীক্ষাতেও বিজেপির এগিয়ে থাকার ছবিটা স্পষ্ট। বিশেষ করে Praja তো বিজেপিকে ১৭৮ থেকে ২০৮টি আসন দিয়েছে। Poll Diary-র পূর্বাভাস, বিজেপি পেতে পারে ১৪২ থেকে ১৭১টি আসন। তবে Chanakya Strategies কিছুটা অন্য ইঙ্গিত দিয়েছে। তাদের মতে, তৃণমূলের সঙ্গে বিজেপির ব্যবধান হয়তো এতটা বেশি হবে না।

এলাকাভিত্তিক ফল দেখলে, উত্তরবঙ্গ এবং জঙ্গলমহল এলাকায় বিজেপি অনেকটাই এগিয়ে থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। শুধু তাই নয়, কলকাতা, হাওড়ার মতো শহরাঞ্চলেও বিজেপি ভালো ফল করবে বলে এক্সিট পোলগুলো জানাচ্ছে। এর থেকে বোঝা যাচ্ছে, তৃণমূলের চিরাচরিত ভোটব্যাঙ্কেও বিজেপি থাবা বসিয়েছে।

এবারের নির্বাচনে সংখ্যালঘু ভোট বিভিন্ন দলের মধ্যে ভাগ হয়ে গিয়েছে, যা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। কংগ্রেস, বামফ্রন্ট এবং ISF জোট বেশ কিছু জায়গায় এই ভোট পেয়েছে। এর ফলে মুর্শিদাবাদ, দক্ষিণ ২৪ পরগনা, মালদার মতো জেলাগুলোতে লড়াই বেশ কঠিন হয়েছে।

সব মিলিয়ে, এই এক্সিট পোলগুলো পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে একটা বড় পালাবদলের দিকেই ইঙ্গিত করছে। তবে মনে রাখতে হবে, এক্সিট পোল শুধুমাত্র ভোটারদের মতামতের ভিত্তিতে তৈরি একটা পূর্বাভাস। চূড়ান্ত ফল ঘোষণা না হওয়া পর্যন্ত কোনও কিছুই নিশ্চিতভাবে বলা যায় না। রাজ্যের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ কী হবে, তা ঠিক করবে সরকারিভাবে ভোট গণনার পরেই।