এনআরসি আতঙ্কে একই দিনে তিনটি মৃত্যুর ঘটনা ঘটল রাজ্যে। জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়ি, দক্ষিণ দিনাজপুরের বালুরঘাটের পর এবার উত্তর চব্বিশ পরগণার বসিরহাটের হিঙ্গলগঞ্জে মৃত্যু হল এক মহিলার। মৃতার নাম আলেয়া বেওয়া (৫৫)।

উত্তর চব্বিশ পরগণার হাসনাবাদ থানার কাটাখালি গ্রামের বাসিন্দা আলেয়া বেওয়ার পরিবারের অভিযোগ, গত কয়েকদিন ধরেই এনআরসি নিয়ে উদ্বিগ্ন ছিলেন ওই প্রৌঢ়া। এ দিন বিকেলে   হিঙ্গলগঞ্জ থানার অন্তর্গত সুন্দরবনের বাঁকড়া গ্রামে বাপের বাড়িতে জমির দলিল আনতে যান তিনি। সেখানেই হৃদরোগে আক্রান্ত হন ওই মহিলা। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তাঁর। 

আরও পড়ুন- নোটবাতিলের স্মৃতি ফেরাচ্ছে এনআরসি আতঙ্ক, বালুরঘাটে লাইনে দাঁড়িয়েই মৃত্যু প্রৌঢ়ের

আরও পড়ুন- এনআরসি আতঙ্কে রাজ্যে জোড়া মৃত্যু,দু' লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ঘোষণা মমতার, দেখুন ভিডিও

এমনিতেই এনআরসি নিয়ে সীমান্তবর্তা এই এলাকাগুলির বাসিন্দারা যথেষ্ট আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। এ দিন ওই প্রৌঢ়ার মৃত্যুর ঘটনায় সেই আতঙ্ক যেন আরও বেড়েছে। এনআরসি চালু হলে আদৌ নাগরিকত্ব প্রমাণ করা যাবে কি না, তা নিয়ে উদ্বিগ্ন সকলে। 

মৃতার বড় ছেলে মোশারফ গাজির দাবি, বেশ কয়েকদিন ধরেই এনআরসি আতঙ্কে ভুগছিলেন তাঁর মা। বাড়ির দলিলও খুঁজছিলেন তিনি। হিঙ্গলগঞ্জ থানার পুলিশ প্রৌঢ়ার মৃতদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য বসিরহাট জেলা হাসপাতালে পাঠায়। অন্য কোনও শারীরিক অসুস্থতার কারণে বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে কি না, ময়নাতদন্তের রিপোর্টে তা পরিষ্কার হবে বলে মনে করছে পুলিশ।

এ দিন সকালেই জলপাইগুড়ির ময়নাগুড়িতে এনআরসি আতঙ্কে এক যুবকের আত্মঘাতী হওয়ার ঘটনা ঘটে। অন্যদিকে বালুরঘাটেও ডিজিটাল রেশন কার্ড করাতে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ লাইনে দাঁড়িয়ে মৃত্যু হয় আরও এক ব্যক্তির। এক্ষেত্রেও এনআরসি নিয়ে আতঙ্কের অভিযোগ তোলে মৃতের পরিবার। এই দু'টি ঘটনাতেই দুই মৃতের পরিবারকে দু' লক্ষ টাকা করে ক্ষতিপূরণ ঘোষণা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী।