নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর বিহারের পর পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার নিবিড় সমীক্ষা শুরু হবে। এই রাজ্যে ২০২৬ সালে বিধানসভা নির্বাচন। পুজোর পরই এই রাজ্যে শুরু হবে পারি ভোটার তালিকা সংশোধন। 

ভোটার তালিকার নিবির সমীক্ষা বা SIR-এর নামে NCR করা হচ্ছে। এই অভিযোগ করেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে মমতা সরাসরি জাতীয় নির্বাচন কমিশনকে নিশানা করেন। তার প্রশ্ন যারা ৫০ বছর পূর্বে জন্মগ্রহণ করেছেন তাদের শংসাপত্র কী করে পাওয়া যাবে?

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

বিহারের ভোটার তালিকা সংশোধন নিয়ে উত্তাল জাতীয় রাজনীতি। সুপ্রিম কোর্টেও মামলা চলছে। বৃহস্পতিবার এই মামলার শুনানি হয়েছে। নির্বাচন কমিশন সূত্রের খবর বিহারের পর পশ্চিমবঙ্গে ভোটার তালিকার নিবিড় সমীক্ষা শুরু হবে। এই রাজ্যে ২০২৬ সালে বিধানসভা নির্বাচন। পুজোর পরই এই রাজ্যে শুরু হবে পারি ভোটার তালিকা সংশোধন। যা নিয়ে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে রাজ্য সরকার।

বৃহস্পতিবার বেহালায় প্রাক স্বাধীনতা দিবসের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেখানেই তিনি বলেন, 'ভোটার তালিকা নিয়ে প্রথমে সরব হয়েছিলাম। SIR নিয়ে সুপ্রিম কোর্টে তৃণমূলের পক্ষ থেকেও মামলা করা হয়েছে। া আমরাও সওয়াল করছি। SIR এর নামে NRC হচ্ছে।' মমতা বলেন, সাধারণ মানুষের কাছে নেই। মমতার প্রশ্ন, ক’টা মানুষের কাছে প্যান কার্ড বা পাসপোর্ট রয়েছে? জন্মের শংসাপত্রই বা ক’জনের কাছে আছে? মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, 'জন্মের শংসাপত্র থাকবে কী করে? ধরুন, ১৯৮২ সালে যাঁরা জন্মেছেন, তাঁদের তো অধিকাংশেরই জন্ম বাড়িতে। তখন কি ইনস্টিটিউশনাল ডেলিভারি হত? কে দেবে জন্মের শংসাপত্র? আমারই তো নেই।' এসআইআর-এর জন্য কেন আধার কার্ড নেবে না কমিশন, সেই প্রশ্নও তুলেছেন মমতা।

বিহারের ভোটার তালিকার নিবির সমীক্ষা ইস্যেতে মামলায় সুপ্রিম কোর্ট দুটি বড় নির্দেশ দিয়েছে। এই মামলার পরবর্তী শুনানি হবে আগামী ২২ অগস্ট অর্থাৎ শুক্রবার। তবে তার পূর্বেই বিহারের ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া ৬৫ লক্ষ ভোটারের নাম প্রকাশ করতে হবে। অন্যদিকে সুপ্রিম কোর্ট এদিন স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে বাদ পড়ারা পুনর্বিবেচনার আর্জি জানাতে পারবেন। সেক্ষেত্রে আধার কার্ডকেই প্রামাণ্য নথি হিসেবে জমা দিতে পারেন। নির্বাচন কমিশনকে বিজ্ঞপ্তি বের করার নির্দেশ দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, 'আধার কার্ড স্থায়ী বসবাসের প্রমাণপত্র হিসেবে ও পরিচয়পত্র হিসেবে আইনত স্বীকৃত একটি নথি। সেক্ষেত্রে আধার কার্ড গ্রহণ করা হবে না কেন?' এদিনের শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে কোনও রকম সমস্যা হলে নাগরিকরা পরচা ও বাসস্থানের প্রমাণ হিসেবে এই কার্ড নিয়ে নির্বাচনী অফিসারদের দ্বারস্থ হতে পারেন।