তৃণমূলের অভিযোগ, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে হেলিকপ্টার ওড়ানোর অনুমতি দেয়নি অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক। তাদের দাবি, বিজেপি ষড়যন্ত্র করে অভিষেকের কর্মসূচি বানচালের চেষ্টা করছে।

হেলিকপ্টার নিয়ে সমস্যার জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোলা অভিযোগ উড়িয়ে দিল বিজেপি। এর জন্য তৃণমূলের ব্যর্থতা, অযোগ্যতা দায়ী বলে পাল্টা জানিয়েছে বিজেপি। এনিয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে কটাক্ষ করেন বিজেপি নেতা রাহুল সিনহা। তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও কটাক্ষ করেন।

মঙ্গলবার দুপুরে দক্ষিণ ২৪ পরগনার বেহালা থেকে হেলিকপ্টারে করে বীরভূমের রামপুরহাটে সভায় যাওয়ার কথা ছিল তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের। কিন্তু নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে যাওয়ার পরেও তাঁর হেলিকপ্টার ওড়েনি। বেলা ১২ টার সময় অভিষেকের বিমান ওড়ার কথা ছিল বেহালা ফ্লাইং ক্লাব থেকে। কিন্তু দুপুর ১টা ৩০ মিনিট হয়ে গেলেও উড়তে পারেনি কপ্টার। ডিজিসিএ-র তরফে এই নিয়ে কোনও কারণ জানানো হয়নি। শেষপর্যন্ত রামপুরহাটে যেতে অভিষেক ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের কাছ থেকে হেলিকপ্টার ভাড়া করেন। দেরিতে হলেও রামপুরহাটে পৌঁছন তিনি। কিন্তু সেখানে পৌঁছেই হেলিকপ্টার না ওড়া নিয়ে ক্ষোভ উগরে দেন। নাম না করে কেন্দ্রীয় সরকারকে তুলোধোনা করেন।

তিনি বলেন, 'নির্বাচন সরকারি ভাবে এখনও ঘোষণা করা হয়নি। তার আগেই বাংলা বিরোধী জমিদারদের চক্রান্ত। আমার কপ্টারের অনুমতি যা সকাল ১১টায় দেওযার কথা তা এখনও দেওয়া হয়নি। মাঝে ভেবেছিলাম গাড়িতে আসব। কিন্তু আমি যদি বেলা ১১টায় বের হই তাহলেও ৫ ঘণ্টার রাস্তা ৫টা বেজে যাবে পৌঁছতে। তাই বুদ্ধি খাটিয়ে ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেনের সঙ্গে কথা বলে কপ্টার আনলাম। বিজেপির যা জেদ, তার ১০ গুণ বেশি জেদ আমার। আমি কথা রাখি। দেরি হলেও বলেছি যাব। ১০টা মানুষ থাকলেও কথা বলব। তৃণমূলের হয়ে কথা বলব।'

তৃণমূলের অভিযোগ, দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদককে হেলিকপ্টার ওড়ানোর অনুমতি দেয়নি অসামরিক বিমান পরিবহণ মন্ত্রক। তাদের দাবি, বিজেপি ষড়যন্ত্র করে অভিষেকের কর্মসূচি বানচালের চেষ্টা করছে। যদিও সেই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন রাজ্য বিজেপির প্রাক্তন সভাপতি রাহুল সিনহা। তিনি এশিয়ানেট বাংলাকে বলেন, 'এর আগে দেখা গিয়েছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্লেন ওড়েনি, তার জন্য বিজেপিকে দোষারোপ করেছেন। পরে দেখা গিয়েছে ভাড়া দেননি, ভাড়া না দিয়ে প্লেনে উঠে বসে রয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। মুখ্যমন্ত্রী যদি ওই কাজ করেন, তাহলে তাঁর ভাইপোও তো একই কাজ করবে। নিজেদের অযোগ্যতার কারণে ওটা হয়েছে, আমাদের দোষ দিয়ে লাভ নেই। কারও হেলিকপ্টার বা প্লেন আটকানোর সময় আমাদের নেই। হেলিকপ্টার নিয়ে সমস্যার জন্য ওরাই দায়ী, ওদের ব্যর্থতা দায়ী।'