বৃহস্পতিবার সকাল থেকেই প্রতীকের বাড়ি এবং আইপ্যাক-এর দফতরে তল্লাশি অভিযান চালাচ্ছে ইডি।
আইপ্যাক-র (I-PAC) অফিস ও সংস্থার কর্ণধার প্রতীক জৈনের (Pratik Jain) বাড়িতে ইডির হানা নিয়ে রাজ্য রাজনীতির পারদ চড়েছে। কলকাতায় তাঁর লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে সাত সকালে পৌঁছে যায় ইডি (ED)। পাশাপাশি আইপ্যাকের (Indian Political Action Committee) সেক্টর ফাইভের অফিসেও অভিযান চালায় ইডি (Enforcement Directorate)। তল্লাশি অভিযানের সময় সেখানে হাজির হন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (CM Mamata Banerjee)। ইডির সামনে দিয়ে সবুজ ফাইল, ল্যাপটপ ও প্রতীকের ফোন নিয়ে বেরিয়ে যান মুখ্যমন্ত্রী। এছাড়াও, তিনি এরপর পৌঁছে যান আইপ্যাকের সল্টলেকের অফিসে। যেখানে এখনও রয়েছেন তিনি। এই তল্লাশি অভিযান নিয়ে মতা বন্দ্যোপাধ্যায় একযোগে বিজেপি, কেন্দ্রীয় সরকার, অমিত শাহ ও নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করেছেন। এই তল্লাশিতে ক্রাইম বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর আরও দাবি, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা দলের ইলেকশান স্ট্র্যাটেজি, প্রার্থী তালিকা-সহ নানা তথ্য ট্রান্সফার করেছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে ন্যাস্টি হোম মিনিস্টার, নটি হোম মিনিস্টার বলে কটাক্ষ করেন।
কী কারণে তল্লাশি
পাল্টা রাজ্য বিজেপির (West Bengal BJP) তরফে বিবৃতি দিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্যে জবাব দেওয়া হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, 'এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেটের মতে, এই তল্লাশি অভিযানগুলো প্রমাণ-ভিত্তিক এবং অবৈধ কয়লা পাচার মামলার সঙ্গে সম্পর্কিত। ইডি জানিয়েছে যে বর্তমানে ১০টি স্থানে তল্লাশি চলছে, যার মধ্যে ৬টি পশ্চিমবঙ্গে এবং ৪টি দিল্লিতে। সংস্থাটির মতে, যে স্থানগুলোতে তল্লাশি চালানো হচ্ছে, সেগুলো উক্ত মামলা থেকে উদ্ভূত অবৈধ নগদ অর্থ, হাওয়ালা লেনদেন এবং অন্যান্য অপরাধমূলক আয়ের সঙ্গে যুক্ত। এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট আরও স্পষ্ট করেছে যে এই অভিযানের অংশ হিসেবে কোনও রাজনৈতিক দলের কার্যালয়ে তল্লাশি চালানো হয়নি। সংস্থাটি আরও জানিয়েছে যে এই তল্লাশিগুলোর সঙ্গে কোনও নির্বাচনের কোনও সম্পর্ক নেই এবং এটি অর্থ পাচারের বিরুদ্ধে তাদের নিয়মিত ও চলমান অভিযানেরই একটি অংশ। ইডি স্পষ্ট করেছে যে এই তল্লাশিগুলো আইন অনুযায়ী নির্ধারিত প্রতিষ্ঠিত আইনি পদ্ধতি এবং সুরক্ষাব্যবস্থা কঠোরভাবে অনুসরণ করে পরিচালিত হচ্ছে।'

বিজেপির বক্তব্য
বিজেপির তরফে বিবৃতিতে আরও জানানো হয়েছে, 'ভারতীয় জনতা পার্টি তার ধারাবাহিক এবং নীতিগত অবস্থান পুনর্ব্যক্ত করছে যে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোকে স্বাধীনভাবে, পেশাদারিত্বের সঙ্গে এবং কোনও রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ছাড়াই কাজ করার সুযোগ দেওয়া উচিত। আইনকে তার নিজস্ব গতিতে চলতে দেওয়া উচিত, যা শুধুমাত্র তথ্য ও প্রমাণের দ্বারা পরিচালিত হবে। বৈধ তদন্ত প্রক্রিয়াকে রাজনীতিকরণ করার বা সাংবিধানিক কর্তৃপক্ষকে দুর্বল করার যে কোনও প্রচেষ্টা প্রতিষ্ঠান এবং আইনের শাসনের প্রতি জনগণের বিশ্বাসকে দুর্বল করে।'


