কলকাতা হাইকোর্টের নির্দেশে বিধায়ক তাপসর বিরুদ্ধে তদন্তের দায়িত্ব পেল সিবিআই। কয়েক কোটি টাকা নয়ছয়ের অভিযোগ তেহট্টের বিধায়কের বিরুদ্ধে। 

নিয়োগ দুর্নীতিতে এবার আরও সমস্যা পড়ল তৃণমূল কংগ্রেস। আরও এক বিধায়কের বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ আদায় করে নিল সিবিআই। দিন কয়েক ধরেই নদিয়ার তেহট্টের বিধায়ক তাপস সাহা ছিল সিবিআই ব়্যাডারে। এবার তাঁর বিরুদ্ধে তদন্তে ছাড়পত্র দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি রাজশেখর মান্থা। চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে টাকা নেোয়ার অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে দীর্ঘ দিন ধরেই ছিল। রাজ্যে পুলিশের কাছে অভিযোগও দায়ের করা হয়েছিল। এবার সেই সেই কেস ডায়েরি ও তদন্তের যাবতীয় নথিপত্র রাজ্যের দুর্নীতি দমন শাখাতে সিবিআই-এর হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দিলেন বিচারপতি।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

গত বছরই তেহট্টের বিধায়ক তাপস সাহার বিরুদ্ধে টাকার বিনিময় চাকরি পাইয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছিল। পাশাপাশি উঠেছিল প্রতারণারও অভিযোগ। বিভিন্ন সরকারি অফিসে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার নাম করে প্রায় ১৬ কোটি টাকা তিনি তুলেছিলেন বলে অভিযোগ। ২০১৮ সালে চাকপি পাইয়ে দেওয়ার নাম ৫ কোটি টাকার প্রতারণার অভিযোগে কলকাতা হাইকোর্টে মামলাও দায়ের করা হয়েছিল। সেই মামলাতেই এদিন সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিল কলকাতা হাইকোর্ট।

কলকাতা হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণঃ

টাকা নিয়ে চাকরি বিক্রির অভিযোগে অভিযুক্ত বাকি তিন জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। কিন্তু তাপস সাহার বিরুদ্ধে তোনও পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। আদালত মনে করছে আইও তদন্ত অনেকটাই এগিয়ে নিয়ে গেছে। কিন্তু মূল অভিযুক্তদের সামনে এসে তিনি আটকে গেছেন। প্রভাবশালীর কারণেই এই সমস্যা হচ্ছে। তাই রাজ্য পুলিশের তদন্ত নিয়ে কোর্ট সন্দেহ প্রকাশ করছে। পর্যবেক্ষণে আদালত জানিয়েছে, তাপস সাহা একট বিধায়ক। প্রভাবশালীও বটে। তাই দুর্নীতি দমন শাখার তদন্ত নিয়ে কোনও সন্দেহ না থাকলেও তদন্তের নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য মামলার ভাল সিবিআই হাতে তুলে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

তরুণজ্যোতি তিওয়ারির মন্তব্য

হাইকোর্টের নির্দেশের পরে মামলাকারী তরুণজ্যোতি তিওয়ারি বলেন, তাপস সাহার বিরুদ্ধে প্রাইমারি, আপার প্রাইমারি, এসএসসি, দমকল, ডাব্লুবিসিএস, আইসিডিএস-সহ একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, রাদ্য পুলিশ মামলার তদন্ত শুরু করে। তার আপ্তসহায়ক গ্রেফতার হয়। জামিনের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। কিন্তু এক বছর ধরে চার্জশিট পেশ করা হয়নি। তাপসকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদও করেনি রাজ্য পুলিশ। তাই সিবিআই তদন্তে সঠিক তথ্য সামনে আসবে বলেও আশাবাদী তিনি।

গতকালই সিবিআই গ্রেফতার করেছে তৃণমূলের বড়োঞার বিধায়ক জীবনকষ্ণ সাহাকে। তাঁর বাড়িতে প্রায় ৬৫ ঘণ্টা ধরে তল্লাশি অভিযান চালিয়েছিল সিবিআই।