রুজিরা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিদেশ সফর নিয়ে কেন্দ্রীয় সংস্থাকে নিশানা মমতার। বললেন ইডিকে জানিয়েই বিদেশ যাচ্ছিল। তাতেই আটকে দেওয়া হয়েছে। 

দুবাই যাওয়া আটকে তৃণমূল কংগ্রেস বেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী রুজিরা নারুলা বন্দ্যোপাধ্যায়কে বৃহস্পতিবার তলব করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। সূত্রের খবর কয়লা পাচার মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্যই তলব করা হয়েছে। সোমবার এই বিষয়ে মুখ খুলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি বলেন, বিদেশ যাওযার বিষয়ে তদন্তকারী সংস্থা ইডিকে জানিয়েছিলেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী রুজিরা। তারপরে আচমকাই তাঁকে আটকে দেওয়া হচ্ছে। কেন্দ্রীয় সংস্থা ইচ্ছেকৃতভাবে রুজিরাকে হেনস্থা করছে বলেও অভিযোগ করেন মমতা। কেন্দ্রীয় সংস্থা অমানবিক আচরণ করছে বলেও অভিযোগ করেন মমতা।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

মমতা এদিন বলেন,'ও (রুজিরা) পঞ্জাবি মেয়ে। ওর মা অসুস্থ'। তারপরই মমতা তুলে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের কথা উল্লেখ করেন। বলেন, 'সুপ্রিম কোর্ট অনুমতি দিয়েছিল। যদি ও কখনও বাইরে যায় তাহলে ইডিকে জানিয়ে যেতে হবে। সেইমত রুজিরা ইডিকে অনেক আগেই জানিয়েছিল তার বিদেশ সফরের কথা। তখন ইডি বলতে পারত তুমি যেও না। ' কিন্তু ইডি তাই করেননি বলে অভিযোগ করে ইডির ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মমতা, তিনি বলেন, 'বিমান বন্দরে দিয়ে রুজিরার হাতে নোটিশ ধরান হয়েছে।' ৮ তারিখের হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলেও জানিয়েছেন মমতা। তিনি আরও বলেন, এই ঘটনা খুবই অমানবিক।

অন্যদিকে রুজিরার বিদেশ সফর আটকে দেওয়ায় সরব হয়েছেন তৃণমূল নেতা কুণাল ঘোষ। তিনি টুইট করে বলেন, 'রাজনীতিতে পাল্লা দিতে না পেরে যারা ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করে বাড়ির লোকদের হয়রানির মাধ্যমে নেতিবাচক বার্তা রটাতে চায়, তারা কাপুরুষ এবং রাজনৈতিকভাবে দেউলিয়া। মনে রাখুক, প্রত্যেক ক্রিয়ারই বিপরীত প্রতিক্রিয়া আছে। তৃণমূল সহ্য করছে মানুষের উপর আস্থা রেখে। বাংলার মানুষ জবাব দেবেন।' তবে তিনি টুইটে কোথাও রুজিরা বা ইডির নাম উল্লেখ করেনি।

কয়লা পাচার সংক্রান্ত মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভাবরীত সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী রুজিরাকে তলব করেছে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট। ইডি সূত্রের খবর আগামী বৃহস্পতিবার অর্থাৎ ৮ জুন তাঁকে সকাল ১১টার সময় সিডিও কমপ্লেক্সে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সোমবার সকালে দুই সন্তান নিয়ে রুজিরা দুবাইয়ের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করেছিলেন। কিন্তু তাঁরে কলকাতা বিমান বন্দরের অভিবাসন দফতরে আটকে দেওয়া হয়। অভিবাসন দফতরের কর্মীরাই তাঁকে আটকে দেন। বিমান বন্দরে বেশ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে রুজিরা সেখান থেকে বেরিয়ে যান। অভিবাসন দফতরের কর্মীদের কথায় ইডি একটি মামলায় রুজিরার বিরুদ্ধে লুকআউট নোটিশ জারি করেছিল। সেই কারণেই তাঁকে আটকে দেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে অভিষেকের ঘনিষ্টরা বলেছেন, এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট রুজিরাকে রক্ষাকবচ দিয়েছিল। তাঁর বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে কোনও বাধা নেই বলেও জানিয়েছিল। তবে বিদেশ যাত্রার আগে রুজিরাকে ইডিতে পুরো তথ্য দিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট। অভিষেক ঘনিষ্টরা জানিয়েছে দুবাই যাওয়ার বিষয়ে আগে থেকেই রুজিরা ইডিকে সব জানিয়েছিল। তখন কিছু বলা হয়নি। তাদের অভিযোগ হেনস্থা করার জন্যই এই কাজ ইডির।

আরও পড়ুনঃ

কাল ফের কটকে যাবেন মমতা, বালেশ্বরের রেল দুর্ঘটনার সিবিআই তদন্ত নিয়ে তোপ কেন্দ্রকে

বায়রন বিশ্বাসের বিধায়ক পদ থাকবে তো? কলকাতা হাইকোর্টে মামলা দায়ের পরই উঠছে প্রশ্ন

'... ছোট ছোট গল্প থেকে ভালবাসা সৃষ্টি হয়', মৃত্য়ুপুরী বালেশ্বরের রেললাইন বুকে আকড়ে প্রেমের কবিতার পাতা