শাসকদল মনোনয়নপত্র জমা দিতে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন শুভেন্দু অধিকারী এবং সুকান্ত মজুমদার। মঙ্গলবার যাবতীয় নথিপত্র-সহ ৫ জন প্রার্থীকে নিয়ে কমিশনে অভিযোগ জানাতে যান সুকান্ত মজুমদার।

'প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিতে পারছে না' অভিযোগে এবার রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দফতরে বিক্ষোভ দেখালেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। বুধবার উত্তর ২৪ পরগনার বসিরহাট বিজেপির মনোনীত প্রার্থীদের নিয়ে রাজ্য নির্বাচন কমিশনের দফতরে গেলেন বিজেপি নেতৃত্ব। শাসকদল মনোনয়নপত্র জমা দিতে দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেন শুভেন্দু অধিকারী এবং সুকান্ত মজুমদার। মঙ্গলবার যাবতীয় নথিপত্র-সহ ৫ জন প্রার্থীকে নিয়ে কমিশনে অভিযোগ জানাতে যান সুকান্ত মজুমদার।

Add Asianetnews Bangla as a Preferred SourcegooglePreferred

বুধবার রাজ্য নির্বাচন কমিশনে পৌঁছন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এবং বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। এদিন বিজেপি নেতৃত্বের ভিত্তিতে পাঁচজন প্রার্থীকে ভেতরে ঢোকার অনুমতি দেয় কমিশন। এদিন কমিশনের দফতরের সামনে দাঁড়িয়ে শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন,'শুধু বিজেপি নয়, অন্যান্য দলের যে সমস্ত প্রার্থীরা মনোনয়ন জমা দিতে পারেননি কাল থেকে তাঁদেরও ডাক দেওয়া হবে।'

অন্যদিকে, মনোনয়ন জমাকে কেন্দ্র করে রাজ্যের একের পর এক জেলায় তুমুল অশান্তির ঘটনায় ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত রাজ্য রাজনীতি। গত দু'দিন ধরে তুমুল উত্তেজনা দক্ষিণ ২৪ পরগনার ভাঙড়ে। এই পরিস্থিতিতে ইন্ডিয়ান সেকুলার ফ্রন্ট (আইএসএফ)-এর তিন প্রার্থীর মনোনয়নপত্র দাখিলের জন্য পুলিশকে সহযোগিতার নির্দেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট। বুধবারই এই নির্দেশ দেন বিচারপতি রাজাশেখর মান্থা।

এদিন পঞ্চায়েত ভোটে হিংসার ঘটনা নিয়ে বড় রায় দিলেন বিচারপতি মান্থা। প্রার্থীদের নির্বিঘ্নে মনোনয়নের ব্যবস্থা করার জন্য কাশীপুর এবং ভাঙড় থানার পুলিশকে নির্দেশ দেন তিনি। শুধু তাই নয় রাজ্যের অন্য প্রার্থীদের ক্ষেত্রেঈ একই অভিযোগ এলে রাজ্য নির্বাচন কমিশন পদক্ষেপ করবে বলেও জানানো হয়েছে। অন্যদিকে মঙ্গলবারের পর বুধবারেও পঞ্চায়েত নির্বাচন ঘিরে গণ্ডোগোল লেগেই রইল। এদিনও ফের মনোনয়ন জমা ঘিরে ধুন্ধুমার কাণ্ড ভাঙরে। গতকালের মত আজও একই ছবি দেখা গেল ভাঙরে। ১৪৪ ধারার মধ্যেই বাঁশ -লাঠি নিয়ে এলাকা দাপিয়ে বেড়াল দুষ্কৃতিরা। বুধবার ১৪৪ ধারা জারি থাকা সত্ত্বেও মুহুর্মুহু বোমাবাজী ও গণ্ডোগোলর ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকাজুড়ে। এমনকী সংবাদমাধ্যমকেও কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠছে। আইএসএফ-সহ মনোনয়ন জমা দিতে আসা বিরোধী প্রার্থীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছে পুলিশের ভূমিকায়। তাঁদের দাবি এলাকায় দেখাই যাচ্ছে না পুলিশকে। এমকী পুলিশের সামনেই বাঁশ নিয়ে প্রার্থীদের তাড়া করারও অভিযোগ উঠেছে।

বিরোধীরা যাতে মনোনয়ন জমা না দিতে পারে তার জন্য রাস্তাও অবরোধ করেছে তৃণমূল কর্মী সমর্থকরা। বুধবার সকাল থেকেই অবরুদ্ধ বাসন্তী হাইওয়ে। এলাকায় বন্ধ যান চলাচল। বড়ালী থেকে ঘটকপুকুর পর্যন্ত এলাকা প্রায় জনশূন্য। পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগে ভাঙরের পরিস্থিতি নিয়ে সরব বিরোধীরাও। পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আনতে অবিলম্বে জেলাশাসক ও পঞ্চায়েত নির্বাচন আধিকারিকের হস্তক্ষেপ চাইছে বিরোধীরা। এই মর্মে চিঠিও দেওয়া হয়েছে সিপিআইএম এবং বিজেপির তরফেও।