Malda BJP News: ভোটের আগে শাসক-বিরোধী তরজায় তুঙ্গে মালদহের রাজনীতি। তৃণমূলের বিরুদ্ধে বিজেপি নেতাকে আক্রমণের অভিযোগ। কোথায় ঘটেছে এই ঘটনা? বিশদে জানতে পড়ুন সম্পূর্ণ প্রতিবেদন…

Malda BJP News: বিজেপির বিরুদ্ধে আক্রমণের অভিযোগ জয় হিন্দ বাহিনীর সভাপতির। উভয়পক্ষের লিখিত অভিযোগ দায়ের ইংরেজবাজার থানায়। ঘটনা ঘিরে সরগরম মালদার রাজনীতি। ইংরেজবাজার পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বিজেপি সভাপতি কৌশিক সরকারের অভিযোগ , তাকে তুলে নিয়ে গিয়ে জয় হিন্দ বাহিনীর কার্যালয়ে মারধর করা হয়। জয় হিন্দ বাহিনীর মালদা জেলা সভাপতি কৃষ্ণদাস ও তার দলবলেরা তাকে মারধর করে।

বেশ কিছুদিন ধরেই জয় হিন্দ বাহিনীতে যোগ দেওয়ার জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছিল। যোগ দিতে অস্বীকার করাই মারধর বলে অভিযোগ। এমনকি তার বিরুদ্ধে থানায় মিথ্যে মামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন কৌশিক। ২০২২ সালে পৌর নির্বাচনের পর থেকেই তার এবং তার পরিবারের উপর আক্রমণ করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন কৌশিক। প্রাণ নাসের আশঙ্কায় ভুগছেন তিনি।

ঠিক কী অভিযোগ উঠেছে? 

যদিও মালদা জেলা জয় হিন্দ বাহিনীর সভাপতি কৃষ্ণ দাসের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। তাকেই মারধর করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। এই ঘটনায় বিজেপি দক্ষিণ মালদা সাংগঠনিক জেলার নেতা সঞ্জয় শর্মা বলেন, নির্বাচনের আগে সারা রাজ্য জুড়ে সন্ত্রাসের পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইছে তৃণমূল। এই ঘটনা তারই প্রমাণ।

অন্যদিকে মালদা জেলা তৃণমূলের মুখপাত্র শুভময় বসু বলেন, আমাদের শাখা সংগঠনের সভাপতির উপর আক্রমণ হয়েছে। পুলিশকে বিষয়টি জানিয়েছি। দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। বিজেপির এই ঘৃণ্য রাজনীতি মানা যাবে না।

এদিকে, চেল নদীর ওপর স্থায়ী সেতুর দাবি: ২৫ কিমি পথ হেঁটে মহকুমা শাসকের দ্বারস্থ নাগরিক মঞ্চ। দীর্ঘদিনের জনদাবি পূরণ করতে চেল নদীর ওপর একটি স্থায়ী সেতুর দাবিতে ফের সরব হলেন ক্রান্তি ব্লকের সাধারণ মানুষ। মঙ্গলবার, ২৭শে জানুয়ারি রাজাডাঙ্গা গ্রাম পঞ্চায়েত এলাকা থেকে মালবাজার মহকুমা শাসক (SDO) এবং বিডিও (BDO) দপ্তর পর্যন্ত এক বিশাল পদযাত্রা ও গণস্বাক্ষর সংগ্রহ অভিযানের ডাক দেয় স্থানীয় নাগরিক মঞ্চ। 

এদিন পদযাত্রার সূচনা করেন পদ্মশ্রী সম্মানে ভূষিত বিশিষ্ট সমাজসেবী করিমুল হক (বাইক অ্যাম্বুলেন্স দাদা)। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উদ্দেশে পাঠানো এই আবেদনের গুরুত্ব বোঝাতে তিনি নিজেও প্রতিনিধি দলের সঙ্গে নদী পার হয়ে কিছুটা পথ হাঁটেন। সাত সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রায় ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ পায়ে হেঁটে প্রশাসনিক দপ্তরে পৌঁছান।

কেন এই সেতুর দাবি? নাগরিক মঞ্চের সম্পাদক মোঃ নুর নবীউল ইসলাম জানান, চেল নদীর ওপারে মালবাজারে মহকুমা হাসপাতাল, দমকল কেন্দ্র, কলেজ এবং বিএলআরও (BL&RO) দপ্তরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সরকারি অফিস রয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে সেতু না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দাদের গরুমারা ও আপালচাঁদ জঙ্গলের মাঝখান দিয়ে প্রায় ৪৫ কিলোমিটার পথ ঘুরে যাতায়াত করতে হয়। এই দীর্ঘ পথের কারণে মুমূর্ষু রোগী বা জরুরি ভিত্তিতে দমকলের গাড়ি পৌঁছাতে দেরি হওয়ায় অনেক সময় বড়সড় ক্ষতির সম্মুখীন হতে হয় স্থানীয়দের।

বিপাকে ছাত্রছাত্রীরা: সবচেয়ে বেশি সংকটে পড়েছেন নিম্নবিত্ত পরিবারের পড়ুয়ারা। নদী পার হয়ে কলেজে যাওয়ার অতিরিক্ত খরচ এবং সময় সামলাতে না পেরে অনেক ছাত্রছাত্রীর পড়াশোনা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। দিনমজুর পরিবারগুলোর পক্ষে যাতায়াতের বাড়তি ব্যয়ভার বহন করা অসম্ভব হয়ে দাঁড়াচ্ছে। এদিনের এই কর্মসূচিতে অংশ নেন শরিফুল হক, ফিরদৌস আলী, বিনয় রায় সহ অন্যান্যরা। দীর্ঘ অপেক্ষার পর ঊর্ধ্বতন আধিকারিকদের অনুপস্থিতিতে দপ্তরের কর্মীদের হাতে স্মারকলিপি তুলে দেন প্রতিনিধিরা। প্রশাসন দ্রুত এই সমস্যার সমাধান না করলে আগামীতে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছে নাগরিক মঞ্চ।

আরও খবরের জন্য চোখ রাখুন এশিয়ানেট নিউজ বাংলার হোয়াটসঅ্যাপ চ্যানেলে, ক্লিক করুন এখানে।