সিঙ্গুরের শিল্পায়ন নিয়ে নতুন করে আশার আলো দেখালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। টাটার ন্যানো কারখানা ঘিরে অতীতে যে জমি-শিল্প বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সেই সিঙ্গুরেই এবার ভারী বাণিজ্যিক গাড়ি তৈরির কারখানা গড়ে ওঠার সম্ভাবনার কথা জানালেন তিনি। এ বিষয়ে গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থা অশোক লেল্যান্ডের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
সিঙ্গুরের শিল্পায়ন নিয়ে নতুন করে আশার আলো দেখালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। টাটার ন্যানো কারখানা ঘিরে অতীতে যে জমি-শিল্প বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, সেই সিঙ্গুরেই এবার ভারী বাণিজ্যিক গাড়ি তৈরির কারখানা গড়ে ওঠার সম্ভাবনার কথা জানালেন তিনি। এ বিষয়ে গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থা অশোক লেল্যান্ডের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। বৃহস্পতিবার রাজ্যের নতুন শিল্পনীতি প্রকাশের পর এই ইঙ্গিত দেন শুভেন্দু। তবে এখনও কারখানা তৈরির চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা প্রকল্পের সময়সীমা ঘোষণা করা হয়নি।
রাজ্যের নতুন শিল্পনীতি
বৃহস্পতিবার নিউটাউনে রাজ্যের নতুন শিল্পনীতি ঘোষণা করার পর এ কথা জানান মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, নতুন শিল্পনীতিতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়কে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। বড় শিল্পের জন্য বিশেষ প্যাকেজের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। নির্দিষ্ট শর্তে সংস্থাগুলিকে ১২০ শতাংশ পর্যন্ত আর্থিক সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। মহিলাদের কর্মসংস্থান বাড়াতে বিনিয়োগকারীদের অতিরিক্ত সুবিধা দেওয়া হবে। প্রয়োজনে কর্মরত মহিলাদের জন্য হস্টেল তৈরিতেও অনুদান দিতে পারে রাজ্য। উৎপাদনকারী ইউনিটগুলির জন্য এসজিএসটি-র ক্ষেত্রেও আর্থিক সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।
১০০ শতাংশ পর্যন্ত স্ট্যাম্প ডিউটি ছাড়
হাসপাতাল, মেডিক্যাল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো অলাভজনক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত স্ট্যাম্প ডিউটি ছাড়ের কথা বলা হয়েছে। রুগ্ন ও বন্ধ শিল্পকে নতুন করে চালু করা, পরিবেশবান্ধব বিদ্যুৎ ব্যবহার এবং গবেষণা ও উন্নয়নমূলক কাজকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হবে। রাজ্যের অনগ্রসর এলাকায় কারখানা তৈরি করলে বিনিয়োগকারীদের অতিরিক্ত উৎসাহ ভাতা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
বৃহস্পতিবারের কর্মসূচি থেকে জমি অধিগ্রহণ নিয়ে কৃষকদের আশ্বস্ত করার চেষ্টা করেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। তাঁর স্পষ্ট বক্তব্য, শিল্পের জন্য জমি অধিগ্রহণ করতে গিয়ে বামফ্রন্ট জমানার মতো কৃষকদের রক্ত ঝরবে না। মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “শিল্পের জমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে কৃষকের উপর গুলি চলবে না।” রাজ্যের কর্মসংস্থানের পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি দাবি করেন, বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গে প্রায় দু’কোটি শিক্ষিত বেকার রয়েছেন। কাজের অভাবে ভিন্রাজ্যে পাড়ি দিয়েছেন প্রায় ৭০ লক্ষ পরিযায়ী শ্রমিক। তাজপুর বন্দরের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, আদানি গোষ্ঠী তাঁকে জানিয়েছিল, তাজপুরে রাজ্য সরকারের নিজস্ব এক একর জমিও ছিল না। ফলে সেখানে বন্দর তৈরি সম্ভব হয়নি।
তবে সিঙ্গুর নিয়ে যে রাজ্য সরকার বিশেষ পরিকল্পনা করছে, তা স্পষ্ট করে দেন শুভেন্দু। তাঁর কথায়, “সিঙ্গুরে আমরা কিছু একটা করবই।” নামী ভারী বাণিজ্যিক গাড়ি প্রস্তুতকারী সংস্থা অশোক লেল্যান্ডের সঙ্গে প্রাথমিক আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তিনি। তবে এখনই কোনও সমঝোতাপত্রে সই করে প্রচারের আলোয় আসতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী। আগের সরকারের বিশ্ববঙ্গ বাণিজ্য সম্মেলনের প্রসঙ্গ টেনে তাঁর বক্তব্য, কোটি কোটি টাকা খরচ করে সম্মেলন হলেও বাস্তবে প্রত্যাশিত কাজ হয়নি। তাই শুধু লোকদেখানো ঘোষণা নয়, বাস্তবে শিল্প ও কর্মসংস্থান তৈরি করাই বর্তমান সরকারের লক্ষ্য।






