গ্রামবাসীরা জানতেন সুখেই ঘর জামাই হিসেবে রয়েছেন যুবক। স্ত্রীর সঙ্গে ভাল সম্পর্কও রয়েছে তাঁর। কিন্তু সেই জামাইকে খুনের অভিযোগেই স্ত্রীর সঙ্গে গ্রেফতার করা হল শাশুড়িকে। এখনও ফেরার নিহতের শ্যালক। 

চাঞ্চল্যকর এই ঘটনা ঘটেছে মুর্শিদাবাদের ভগবানগোলা থানার মহিষাস্থলীর বাজিতপুর এলাকায়। মৃত যুবকের নাম সঞ্জীব রায় (৩২)। তিনি পেশায় রাজমিস্ত্রি ছিলেন। পুলিশের সন্দেহ,শ্যালককে ধার দেওয়া টাকা ফেরত চাওয়ার জেরেই খুন হতে হয়েছে ওই যুবককে। 

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, ভগবানগোলা থানার সুন্দরপুরের গোবিন্দপুর এলাকার বাসিন্দা পেশায় রাজমিস্ত্রি সঞ্জীব রায়ের সঙ্গে বছর ছয়েক আগে বিয়ে হয় মহিষাস্থলী গ্রামের ঝুমা সিংয়ের সঙ্গে। তাঁদের দু'টি সন্তানও রয়েছে। বছর দেড়েক আগে ভাইয়ের সঙ্গে বিবাদের জেরে  স্ত্রী এবং সন্তানদের নিয়ে অস্থায়ীভাবে শ্বশুরবাড়িতে থাকছিলেন সঞ্জীব। এর পরই সঞ্জীবের শ্যালক রাজেশ সিং তাঁর থেকে ৬০ হাজার ধার নেন বলে অভিযোগ। ওই টাকা নিয়ে মাসখানেক আগে জামাইবাবু ও শ্যালকের মধ্যে চরম ঝামেলাও হয় বলে দাবি স্থানীয়দের। সঞ্জীববাবু তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকদের জানিয়ে দেন, তিনি তাঁর প্রাপ্য টাকা ফিরে পেলে গেলে নিজের গ্রামে চলে যাবেন। 

এর পরেই তিন মাসের জন্য কলকাতায় কাজ করতে গিয়েছিলেন সঞ্জীব। সম্প্রতি ইদের আগে কলকাতা থেকে ফিরে এসে ফের শ্যালক রাজেশকে টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য চাপ দেন তিনি। মৃতের পরিবারের অভিযোগ, এর পরেই চক্রান্ত করে সঞ্জীবকে শ্বাসরোধ করে খুন করেছে তাঁর শাশুড়ি অলকা সিং, স্ত্রী ঝুমা সিং এবং শ্যালক রাজেশ সিং। ঘটনার পরেই সঞ্জীবের স্ত্রী এবং শাশুড়িকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। নিহতের শ্যালক রাজেশ সিং পলাতক। তার খোঁজেও তল্লাশি শুরু হয়েছে। 

মৃতের ভাই রঞ্জিত রায়ের অভিযোগ,'তিন মাসের রোজগারের টাকা হাতিয়ে নিতেই দাদাকে ওরা খুন করেছে।' অন্যদিকে  মৃতের স্ত্রীর বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক থাকারও অভিযোগ উঠেছে। সেই কারণেই সঞ্জীবকে খুনে স্ত্রী ঝুমাও সামিল হয়েছিল বলে অভিযোগ মৃতের পরিবার এবং স্থানীয়দের।