চিকিৎসক নেই, কিন্তু মোবাইল তো আছে। ভিডিও কলে চিকিৎসকের পরামর্শে চলন্ত ট্রেনে মহিলার প্রসব করিয়ে দিলেন সহযাত্রীরাই।  প্রসবের পর ট্রেন থামিয়ে মা ও সদ্যোজাতকে ভর্তি করা হল হাসপাতালে। বীরভূমের রামপুরহাটের ঘটনা। 

তামিলনাড়ুর পেরাম্বুলার জেলার টথুকুডি এলাকার বাসিন্দা অরুনাচলম শিবা রামস্বামী।  সেনাবাহিনীতে স্বাস্থ্যকর্মী হিসেবে কর্মরত তিনি, স্ত্রীকে নিয়ে থাকেন অরুণাচল প্রদেশে। মঙ্গলবার আগরতলা-বেঙ্গালুরু হামসফর এক্সপ্রেসে সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে নিয়ে বাড়ি ফিরছিলেন  রামস্বামী। ট্রেনে যাত্রীরা জানিয়েছেন,  বুধবার ভোরের দিকে ট্রেন যখন নিউ জলপাইগুড়ি স্টেশনে পৌঁছয়, তখন প্রসব যন্ত্রণা শুরু হয় রামস্বামীর স্ত্রী-এর।  ট্রেন ছাড়ার সন্তানসম্ভবা ওই মহিলার আবার রক্তরক্ষণও শুরু হয়ে যায়। ট্রেনে কোনও চিকিৎসক ছিলেন না। অসহায় অবস্থায় যখন রামস্বামী যখন কামরায় পায়চারি করছিলেন, তখন এক মহিলা যাত্রী তাঁর পরিচিত এক চিকিৎসককে ফোন করেন বলে জানা গিয়েছে। ভিডিও কলের মাধ্যমে  ওই চিকিৎসকের পরামর্শে প্রসূতিকে শৌচাগারের কাছে নিয়ে প্রসব করান ট্রেনের অন্য মহিলা যাত্রীরা। পুত্রসন্তানের জন্ম দেন ওই মহিলা। কিন্তু রক্তক্ষরণ বন্ধ করা যায়নি, মালদহ স্টেশনে ওই মহিলাকে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও ইঞ্জেকশন দেন রেলের চিকিৎসকরা।  শেষপর্যন্ত রামপুরহাট স্টেশনে ওই মহিলাকে ট্রেন থেকে নামিয়ে হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।  রেলের চিকিৎসক এস ভাওয়াল বলেন, 'প্রসূতির রক্তক্ষরণ বন্ধ হচ্ছিল না। সঠিক চিকিৎসা না হলে পরে সমস্যা হতে পারে।'  জানা গিয়েছে, সেনাবাহিনীর কর্মী রামস্বামীর দুই সন্তান আছে। ট্রেনে তৃতীয় সন্তানের জন্ম দিলেন তাঁর স্ত্রী। সন্তানসম্ভবা ওই মহিলাকে বাড়িতে রেখে ফের কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার তাঁর স্বামী। কিন্তু তার আর দরকার পড়ল না।