এনআরসি-র আতঙ্ক ছড়িয়েছে এ রাজ্যেও। নিজের গ্রামেই বাড়ি বাড়ি গিয়ে মোবাইল ও ইন্টারনেট ব্যবহারের প্রশিক্ষণ দিতে বিক্ষোভের মুখে পড়লেন বেসরকারি সংস্থার এক কর্মী। পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে।  ঘটনাটি ঘটেছে বীরভূমে নলহাটির কুমারসন্ডা গ্রামে। মোবাইল সংস্থার ওই কর্মীকে আপাতত আত্মীয়ের বাড়িতে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন প্রশাসন।

ঘটনাটি ঠিক কী? এ রাজ্যে গ্রামীণ এলাকায় মহিলাদের মোবাইল ও ইন্টারনেটের ব্যবহার শেখানোর জন্য যৌথভাবে একটি প্রকল্প চালু করেছে দুটি বেসরকারি সংস্থা। প্রশিক্ষণ নিয়ে এই প্রকল্পে কাজ করছেন মহিলারাই।  জানা গিয়েছে, বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বীরভূমের নলহাটির কুমারসন্ডা গ্রামে নিজের বাড়িতে বসেই স্থানীয় মহিলাদের প্রশিক্ষণ দিচ্ছিলেন  দিলারা পারভিন নামে তরুণী।  শুধু তাই নয়, প্রশিক্ষণ শেষে আবার সকলের নামও ও ঠিকানাও নথিভুক্ত করে রাখছিলেন তিনি।  আর তাতেই সন্দেহ হয় স্থানীয় বাসিন্দাদের। শুরু হয়ে যায় বিক্ষোভ,অনেক রাত পর্যন্ত পারভিনাকে আটকে রাখেন গ্রামবাসীরা।  তাঁদের বক্তব্য, 'তিনমাস ধরে কাজ করছে ওই মহিলা। বাড়ি বাড়ি গিয়ে মোবাইল হাতে দিয়ে ছবি তুলে নিচ্ছে। আধার কার্ডের ছবি তুলছে। আমাদের সন্দেহ হয় যে এন আর সি-এর সার্ভে করছে। তাই আটকে রেখেছিলাম।'  

আরও পড়ুন: ভিনরাজ্যে গিয়ে বনেছিল 'খুনি', দেড় বছর পর পুলিশের জালে রায়গঞ্জের মহিবুল

এদিকে এই ঘটনার খবর যখন কুমারসন্ডা গ্রামে যান নলহাটি ২ নম্বর ব্লকের আধিকারিক, তখন তাঁদের ঘিরেও বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন স্থানীয় বাসিন্দারা।  এমনকী বিক্ষোভের মুখে পড়েন খোদ বিডিও-ই।  শেষপর্যন্ত পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে, উদ্ধার করা হয় মোবাইল সংস্থার ওই কর্মীকেও।  নলহাটি ২ নম্বর ব্লকের বিডিও হুমায়ূন চৌধুরী বলেন, “বেসরকারি কোম্পানির হয়ে ওরা কাজ করছে। কিন্তু এখন যেহেতু এন আর সি একটা গণ্ডগোল চলছে, সেহেতু মানুষ ভেবেছে সেই সার্ভে হচ্ছে। গুজবের কারণে এমন ঘটনা ঘটেছে। মানুষকে সচেতন করতে এলাকায় প্রচার চালানো হবে।'